২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ নারীর

“ঈদের সময় মানুষের কাছ থেকে আনা যাকাতের টাকা ও চেয়ে আনা চাল বিক্রির মোট ৫০ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়। এখন আমি সর্বহারা হয়ে গেলাম।”

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Apr 2025, 08:21 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:38 PM

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক দিনমজুর নারীর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। 

রোববার দুপুরে উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি গ্রামের দিনমজুর মোসা. সামেলা বেগম (৪৫) ওই নেতা ও তার ম্যানেজারের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান জানান।  

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ সাহা। 

সামেলা বেগম লিখিত অভিযোগে বলেন, তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে শেলাহাটি গ্রামে রেলের জমিতে বসবাস করে আসছেন। পাশেই সুভাষ সাহার জমি রয়েছে। ওই রেলের জমিটুকু পাওয়ার জন্য সুভাষ সাহা মরিয়া হয়ে ওঠেন। 

বেশ কিছুদিন ধরে সুভাষ সাহা ও তার লোকজন বিভিন্ন সময় সামেলার বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। বাড়িতে না থাকার সুযোগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন দিয়ে ওই নারীর বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সামেলা বেগম বলেন, “সুভাষ সাহা বিভিন্ন সময় বাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। শনিবার রাতে তার লোকজন দিয়ে আগুন ধরিয়ে আমার বসতবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে ঘরে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্রও পুড়ে গেছে।

“ঈদের সময় মানুষের কাছ থেকে আনা যাকাতের টাকা ও চেয়ে আনা চাল বিক্রির মোট ৫০ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়। এখন আমি সর্বহারা হয়ে গেলাম।”

একই গ্রামের হাবিল বিশ্বাস বলেন, “সুভাষ সাহা নিজে ও তার লোকজন বিভিন্ন সময় ওই নারীর ঘর-বাড়ি ভেঙে নেওয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল।”

একই কথা বলেন সেলিনা বেগম নামে এক প্রতিবেশী।

তবে এ বিষয়ে সুভাষ সাহা বলেন, “আমি সামেলা বেগমের বাড়ি পোড়াইনি। সামেলা বেগম আমার জমিতে বসবাস করেন। তার জন্য অন্য জায়গায় বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

বাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ তদন্ত করার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”