Published : 23 Dec 2025, 12:29 PM
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কুড়িগ্রামে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে এ জেলায় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, মঙ্গলবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
বেলা ১১টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। প্রকৃতি ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। শহরে লোকসমাগম ছিল কম।

নিম্নআয়ের শীতার্ত মানুষ ঠান্ডা নিবারণে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে গবাদিপশুর শীত নিবারণে চটের বস্তা ব্যবহার করছেন খামারি ও কৃষকেরা।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, শিশু ও বৃদ্ধরা। কাজ হারিয়ে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও।
কুড়িগ্রামে দিনের বেলা সূর্য দেখা দিলেও রোদের তেমন উওাপ থাকে না। বিকাল থেকে সূর্য ডোবার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত শীতের তীব্রতা থাকে প্রচণ্ড।
শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতেও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালীর আলগা চরের ওয়ার্ড মেম্বার হোসেন আলী বলেন, তার চরে প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস। বৃদ্ধ ও শিশুসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

শীতার্ত মানুষ প্রতিদিন তার বাড়িতে এসে ভিড় করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “লিস্ট করেছি, কম্বল পেয়ে যাবেন-এই আশ্বাসই দিতে হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র পাওয়া যায়নি।”
আবহাওয়া কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, “আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এতে শীতের মাত্রা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”