১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

মানিকগঞ্জে থানা থেকে পিস্তল-ম্যাগাজিন উধাও, তদন্তে কমিটি

ওসি বদলের পর অস্ত্রের হিসাব মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে বিষয়টি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Oct 2026, 08:23 PM

Updated : 16 Oct 2026, 08:23 PM

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগারে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

৩ অক্টোবর অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

শুক্রবার এ তথ্য জানান মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মহরম আলী।

তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (প্রশাসন) প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হরিরামপুর থানার নতুন ওসি জে এম তৌফিক আজম ২২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন।

তার ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার সময় নথিপত্র অনুযায়ী অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব বুঝে নিলেও পরে সরেজমিনে গণনা করতে গিয়ে একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। কয়েক দফা খোঁজাখুঁজি করেও সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরে ৫ অক্টোবর তিনি এ বিষয়ে জিডি করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

তবে থানার আগের ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেনের দাবি, ২২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় তিনি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত কপিও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, নিখোঁজ পিস্তলটি জুন মাসে টাঙ্গাইলে ভিআইপি ডিউটিতে ব্যবহারের পর থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি থানা পরিদর্শনও করেন।

তাই অস্ত্র খোয়া যাওয়ার দায় তার নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তথ্য অনুযায়ী, জুনে ভিআইপি ডিউটির জন্য পিস্তলটি নিয়ে টাঙ্গাইলে যান হরিরামপুর থানার এএসআই আবুল বাশার। সেখানে অবস্থানকালে তার শ্বশুরের মৃত্যু হলে তিনি অস্ত্রটি সরাসরি অস্ত্রাগারে জমা না দিয়ে এসআই জয়নাল আবেদীনের কাছে বুঝিয়ে দেন।

পর দিন টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের সময় পিস্তলটি ব্যবহার করেন এসআই জয়নাল আবেদীন। ডিউটি শেষে তিনি অস্ত্রটি কনস্টেবল হারুন অর রশিদের কাছে দিয়ে থানায় জমা দিতে বলেন। হারুন পরে পিস্তলটি হরিরামপুর থানায় জমা দেন।

জয়নাল আবেদীনও বলেন, তিনি পিস্তলটি হারুনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে থানায় জমা দিতে বলেছিলেন।

অন্যদিকে, অস্ত্রাগারের দায়িত্বে থাকা এসআই এমদাদুল হক বলেন, অস্ত্রাগারের দায়িত্ব তার থাকলেও অস্ত্র ইস্যু ও জমা নেওয়ার কাজটি মূলত কনস্টেবল আবুল কালাম করেন।

ইস্যু-জমা রেজিস্টারে পিস্তলটি থানায় জমা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এরপর আর কোনো ডিউটির জন্য সেটি দেওয়া হয়নি। তারপরও পিস্তল ও ম্যাগাজিনের হদিস না মেলায় কীভাবে সেগুলো নিখোঁজ হলো, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি।