জেলা নির্বাচন: টাকা নিয়েও ভোট না দেওয়ায় ক্ষোভ
বগুড়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে শেরপুর ও ধুনট উপজেলায় টাকা নিয়েও ভোট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
পরাজিত কয়েকজন কিছু টাকা ফেরত পেলেও বেশিরভাগ টাকা পাননি। ফেরত নিতে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান ও তিনটি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। সাধারণ সদস্য পদে ১৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত ১৭ সদস্য পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১০ জন, বিদ্রোহী ৬ জন এবং জাপা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন।
শেরপুর ও ধুনট উপজেলায় পরাজিত প্রার্থী ও ভোটার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি প্রার্থীই ভোট পেতে ভোটারদের ‘সম্মানির’ নামে দাবি করা ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা টাকা দিয়েছেন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের (ধুনট) সাধারণ সদস্য পদে সাত জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমানউল্লাহ দলীয় সমর্থন পান। পাঁচ জন ছিলেন বিদ্রোহী এবং একজন জাসদ সমর্থিত প্রার্থী। পৌরসভাসহ ১০ ইউনিয়নে ভোটার ১৪৫ জন। ভোট দিয়েছেন ১৪৩ জন। ৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী এফএম ফজলুল হক।
পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী মাছুদুল হক বাচ্চু বলেন, ভোটের আগে ৯৩ জন ভোটার তার কাছে ‘সম্মানি’ হিসাবে ১৫ হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু ভোট দেন মাত্র ১১ জন। তাই তিনি যারা ভোট দেননি তাদের কাছে টাকা ফেরত চেয়েছেন। ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ১৬ জন টাকা ফেরত দিয়েছেন।
আরেক প্রার্থী যুবলীগ নেতা রুবেল বলেন, তিনি ৯২ জনকে ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত ১০ জন তাকে টাকা ফেরত দিয়েছেন।
এ ওয়ার্ডে (৫ নম্বর) আওয়ামী লীগ সমর্থিত সদস্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমানউল্লাহ বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। বরং তারা পরোক্ষভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।
বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে অবহিত করবেন বলে জানান।
শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুস সাত্তার বলেন, অর্থের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজনুর স্ত্রী শিল্পী বেগম ভোটের আগে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শার্ট-প্যান্ট দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, শিল্পী বেগম বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলীয় প্রার্থী আম্বিয়া পরাজিত হয়েছেন। আম্বিয়া পেয়েছেন ৩৭ ভোট আর শিল্পী বেগম ৪৯ ভোট।
