ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় একই সংগঠনের আহত ৯

দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ার চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Feb 2024, 12:28 PM
Updated : 14 Feb 2024, 12:28 PM

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংগঠনটির অন্তত নয় ছাত্র আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জননেতা আব্দুল মান্নান হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শাকিল মাহমুদ শাওন জানান।

আহতরা হলেন- বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ছাত্র সোহানুর রহমান সোহান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের রকি, আইসিটি বিভাগের জয় ধর, রসায়ন বিভাগের সজীব শেখ, অর্থনীতি বিভাগের সৌরভ, মিনার, নাঈম রাজ, আইসিটি বিভাগের সৌরভ, টেক্সটাইল বিভাগের তামীম।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে সোহানকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল) ও রকিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় সোহান তিন তলার ছাদ থেকে পড়ে গেলে তার দুই পা ও কোমর ভেঙে যায়। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। আর রকি ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী বলে জানা গেছে।

অন্যরা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল ও সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীরের অনুসারীদের মধ্যে রাতভর থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

এতে রাতভর উত্তপ্ত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী বেশ কয়েকজন নতুন কর্মীকে নিজেদের মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীরের অনুসারীরা। তখন সভাপতি পক্ষের এক কর্মী এ ধরনের চাপ দিতে বারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতি পক্ষের এক কর্মীকে মারধর করেন সম্পাদকের অনুসারীরা। পরে এ মারধরের ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শাকিল মাহমুদ শাওন বলেন, “হল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আমরা রাতেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বসেছিলাম। সবাই একমত হয়েছেন যে, দোষী যে-ই হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় সাত থেকে নয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের অবস্থাও গুরুতর দেখে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। আর বাকিদের টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

সহকারী প্রক্টর শাকিল মাহমুদ শাওন বলেন, “গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীকে তিনতলার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার বিষয়ে উপাচার্য স্যার অবগত আছেন। তিনি আজ বিকালে জরুরি রিজেন্ট বোর্ড ডেকেছেন। সেখান থেকে এ ঘটনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।”

এছাড়া উপাচার্য গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীর খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তার চিকিৎসার যথাযথ সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানান সহকারী প্রক্টর।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, “অতর্কিত হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল ঘটনায় নিজের ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তিনিও ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জননেতা আব্দুল মান্নান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ডক্টর আশরাফ হোসাইন তালুকদার বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাদিকুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর পরই আব্দুল মান্নান হলের বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালিয়ে ২০টি লোহার রড ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”