কুড়িগ্রামে এক স্কুলে এক শিক্ষক, অনুপস্থিত বেশির ভাগ শিক্ষার্থী

স্কুলটিতে শিক্ষকের পাঁচটি শূন্য পদ রয়েছে। ১৮৭ জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেয় ৭৭ শিক্ষার্থী।

আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 10:29 AM
Updated : 5 August 2022, 10:29 AM

কুড়িগ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘দুই বছর’ ধরে চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে; যে কারণে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে না নিয়মিত।

প্রশাসন বিষয়টি অবগত হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একমাত্র শিক্ষক মোসাম্মৎ রোজিনা খাতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রোজিনা বলেন, তিনি একাই গত দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন।

জেলার চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর গ্রামে ১৯৯১ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হলে ওই বছর ডাটিয়ার চরে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে স্কুলটি সেখানেই রয়েছে।

রোজিনা বলেন, ২০১৩ সালে স্কুলটি জাতীয়করণের সময় পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন; কালে কালে চারজন অবসরে যান।

“২০২০ থেকে আমি একাই আছি। সেই থেকে আর কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”

সরেজমিন চিলমারী নৌবন্দর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দেড় ঘণ্টা চলার পর বিদ্যালয়টিতে পৌঁছে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে ক্লাস ও ক্লাসের বাইরে অবস্থান করছে। হাজিরা খাতা অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৭ জন হলেও বৃহস্পতিবার সব ক্লাস মিলে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৭ জন।

রোজিনা বলেন, “আমার একার পক্ষে স্কুল পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক।”

ওই এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ আলী, জহুরুল ইসলাম, জব্বার আলীসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, এডহক কমিটির আহ্বায়ক হয়েও স্কুলটি একবারও পরিদর্শন করেননি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জাকির হোসেন।

তার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।

পরিদর্শন না করার কথা স্বীকার করেছেন জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, তিনি চলতি বছর জানুয়ারির শেষের দিকে যোগ দেন। ব্যস্ততার কারণে স্কুল পরিদর্শন করতে পারেননি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

আপাতত দুই-তিনজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিলমারীর ইউএনও মো. মাহবুবুর রহমান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক