জামিনে মুক্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুল হক
এ ঘটনায় রংপুরের হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানার ওসিকে বদলি করেছে মহানগর পুলিশ।
রংপুরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হককে জামিন দিয়েছে আদালত।
রোববার বিকালে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালত-১ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এর বিচারক মোছা. মার্জিয়া খাতুন শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানান আইনজীবী শামীম আল মামুন।
এদিকে মুদি দোকানি ছমেছ উদ্দিন ‘হত্যা মামলার’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহকে বদলি করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ।
মাহমুদুল হকের আইনজীবী শামীম আল মামুন বলেন, “জেলখানা থেকে মহানগর দায়রা জজকে জানানো হয়, মাহমুদুল হক খুব অসুস্থ। তারপর আমরা পুনরায় আবেদন করেছিলাম। পরে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।”
তিনি বলেন, এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রংপুর মহানগর হাকিম আদালত-১-এ (হাজীরহাট আমলি আদালত) শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিনের আবেদন করা হয়।
এ সময় আইনজীবীদের বক্তব্য উপস্থাপনের পর বিচারক সোয়েবুর রহমান মঙ্গলবার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির আদেশ দেন বলে জানান শামীম আল মামুন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়ার সময় ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মুদি দোকানি ছমেছ উদ্দিন মারা যাওয়ার ১০ মাস পর ‘হত্যা মামলা’ করা হয়।
ওই মামলায় বৃহস্পতিবার বিকালে মাহমুদুল হককে রংপুর নগরের ধাপ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে হাজীরহাট থানা-পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিকালে বিতর্কের মুখে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহকে বদলি করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আবদুল আল মামুন শাহ রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তাকে রংপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেইসঙ্গে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক রাজিবুল ইসলামকে হাজীরহাট থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জুলাই-অগাস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে ৩ জুন হাজীরহাট থানায় ৫৪ জনকে আসামি করে ‘হত্যা মামলা’ করেন নগরের রাধাকৃষ্ণপুর মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম। মামলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুল হককে ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তবে মাহমুদুল হকের স্ত্রীর মাসুবা হাসানের দাবি, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। যে ‘হত্যা মামলায়’ মাহমুদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি (ছমেছ উদ্দিন) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।
