Published : 24 Jan 2026, 10:22 PM
রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় ‘নির্বাচন ঘিরে অস্ত্র মজুদের আলোচনা করা’ নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা বজলুর রহমান ওরফে ‘ডন বজলুকে’ তিন সহযোগীসহ আটকের কথা জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার দুপুরে শিমরাইল এলাকা তল্লাশি চৌকিতে তাদের গাড়িতে লুকানো আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয় বলে র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক জানিয়েছেন।
বজলুর রহমান ওরফে ‘ডন বজলু’ সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি; তার বাড়ি উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায়।
র্যাব কর্মকর্তা নাঈম বলেন, “ওই বিএনপি নেতার ব্যক্তিগত গাড়ির আসনের নিচে লুকানো ছিল পিস্তলটি। দুই রাউন্ড গুলিও জব্দ করা হয়।”
আটক অপর ব্যক্তিরা হলেন- একই এলাকার সাইদুল (৩৪), আব্দুল জব্বার (৪৩) ও নাজমুল হকের ছেলে ইউনুস বাঁধন (২০)। তারা বজলুরের অনুসারী।
র্যাব বলছে, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে বজলুর রহমান স্থানীয়ভাবে ‘ডন বজলু’ নামে বেশি পরিচিত।
সম্প্রতি একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিএনপি নেতা বজলুর রহমান ও তার সহযোগীদের আলাপে ‘অবৈধ অস্ত্র মজুদের’কথা শোনা যায়। এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়।
র্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁয়ে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুদ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
“ভিডিওতে বজলুর রহমানসহ তার অনুসারীদের খাবার টেবিলে অস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা করতে দেখা যায়। খাওয়া-দাওয়ার একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় অবৈধ অস্ত্র মজুদ করার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “ভিডিওতে বজলুর রহমানের পাশে বসা আরেকজনকে ‘নির্বাচনের জন্য আরও দুটি অস্ত্র দরকার’- এমন কথা বলতে শোনা যায়।”
নাঈম উল হক বলেন, “ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর র্যাব ‘ছায়াতদন্ত’ শুরু করে। তবে বজলুর রহমান র্যাবের বসানো নিয়মিত তল্লাশিচৌকিতে আটক হন।”
তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কথা বলেন এ র্যাব কর্মকর্তা।
এর আগে বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনায় আসেন বজলুর রহমান। বজলুরের নির্দেশে তার অনুসারীরা আক্রমণ চালান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় হওয়া মামলায় আসামি হওয়ার পর বজলুর রহমানকে বহিষ্কার করে উপজেলা বিএনপি। কিন্তু পরে ‘কেন্দ্রীয়ভাবে এ বহিষ্কারাদেশ গৃহীত না হওয়ায়’ তা ‘কার্যকর হয়নি’ বলে জানান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
বজলুরকে আটকের পর মোশারফ হোসেন বলেন, “অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে বজলুরের বিরুদ্ধে দল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।”