৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

মেঘনা থেকে উদ্ধার করা গেলেও জহুরাকে বাঁচান গেল না

রাতভর নদীতে থাকা এই নারী ছিলেন ট্রমায়, তার পায়ের জখমও গুরুতর ছিল- জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2023, 06:29 PM

Updated : 08 May 2023, 09:04 PM

চলন্ত লঞ্চ থেকে রাতে মেঘনা নদীতে পড়ার ১০ ঘণ্টা পরও জীবিতই পাওয়া গিয়েছিল জহুরা বেগমকে। তবে ভেঙে গিয়েছিল পা, তা সারাতে অস্ত্রোপচার করা হলেও বাঁচান যায়নি এই নারীকে।

ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মৃত্যু হয়েছে তার।

জহুরা (৩৮) শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের পশ্চিম বিষকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের স্ত্রী; সেখানেও মৃত্যুর খবর পৌঁছেছে।

গোসাইরহাট থানার ওসি আসলাম শিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই নারী ঢাকায় মারা গেছেন।”

কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন স্বপন বলেন, “জহুরা জীবন বাঁচাতে সাহসের সঙ্গে ৯ ঘণ্টা মেঘনা নদীতে ভেসে ছিলেন। সবার সহযোগিতায় তার উন্নত চিকিৎসা চলছিল। তবে আজ সকালে তিনি মারা গেলেন।”

হাসপাতালে জহুরার সঙ্গে থাকা তার মা নার্গিস বেগম বলছিলেন, “আমরা চিকিৎসা করানোর জন্য ঢাকা আনি। অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না। এখন ওর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে কী বলে সান্ত্বনা দেব!”

পুরনো খবর:

লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজের ১০ ঘণ্টা পর নারীকে জীবিত উদ্ধার
‘আমার বউডা যে বাইচ্চা আছে, এইডাই অনেক’

জহুরার দেবর মাইদুল ইসলাম মৃধা বলেন, “ডাক্তাররা বলেছেন, রাতভর নদীতে থাকার কারণে তিনি ট্রমায় ছিলেন। পায়ের আঘাতটা গুরুতর ছিল। রক্তক্ষরণ হয়েছে।”

পশ্চিম বিষকাঠি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে জহুরাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

জহুরুল পরিবার নিয়ে থাকেন নারায়ণগঞ্জে। এবার সপরিবারে ঈদ করতে বাড়ি গিয়েছিলেন। ঈদ শেষে গোসাইরহাটের মাইঝাড়া ঘাট থেকে ঈগল-৩ লঞ্চে চড়ে নারায়ণগঞ্জ ফেরার পথে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঠাণ্ডার বাজার এলাকায় নদীতে পড়ে যান জহুরা।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর জেলেদের সহায়তায় পরদিন সকালে জহুরাকে মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।

উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জহুরাকে নিয়ে যাওয়া হয় গোসাইরহাট। তবে লঞ্চ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় তার বাঁ পা ভেঙে হাড় বেরিয়ে গিয়েছিল, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা আনা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পর রাতেই জহুরার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

জহুরার পড়ে যাওয়া নিয়ে তার স্বামী জহুরুল জানিয়েছিলেন, লঞ্চের দোতলার একটি কেবিনে উঠেছিলেন তারা। ওঠার কিছুক্ষণ পর জর্দা দিয়ে পান খেয়েছিলেন জহুরা, এরপর তিনি কুলি করার জন্য একাই বেরিয়েছিলেন বারান্দায়, তখনই কোনোভাবে পড়ে যান নদীতে।