Published : 20 Mar 2026, 11:52 PM
ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মৎস্য বিভাগের স্পিডবোট ডুবে নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা অস্ত্র ও গুলির সন্ধান মেলেনি।
ঘটনার দুই দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা সংলগ্ন নদীর তীর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম।
নিহত ফখরুল ইসলাম (৪০) লালমোহনের মঙ্গল সিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়।
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাটে স্পিডবোট ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ফখরুলসহ সাতজন নদীতে তলিয়ে যান। তাদের মধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ছিলেন ফখরুল।
ওসি অলিউল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় নদীর তীরে লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফখরুলের লাশ শনাক্ত করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা শটগান ও গুলি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গল সিকদার ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় হঠাৎ অভিযানকারী দলের স্পিডবোটটি বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে। অন্যদিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল।
এক পর্যায়ে স্পিডবোটটি স্রোতের তোড়ে ভাসতে ভাসতে লঞ্চটির পেছনের প্রপেলারের কাছে চলে আসে। বোটটি লঞ্চের তলায় ঢুকে যাওয়ার মুহূর্তে বোটে থাকা পুলিশ সদস্য ও মৎস্য বিভাগের লোকজন একপাশে জড়ো হয়ে সেটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে লঞ্চের প্রপেলারের পানির ঘূর্ণিতে স্পিডবোটটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়।
এ সময় বোটে থাকা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অন্যান্য লোকজন সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ ছিলেন ফখরুল।