Published : 03 Sep 2025, 06:51 PM
নাটোর পৌরসভা থেকে সরবরাহ করা পানি পান করে শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক বাসিন্দা।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত নাটোর সদর হাসপাতালে ১৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাটোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিন।
নাটোর সদর হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স সায়রা আফরোজ স্মৃতি বলেন, অসুস্থরা সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তারা পৌর এলাকার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
খবর পেয়ে দুপুরে সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা খাতুন এবং সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন।
তারা বলছেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত আছে। এ ছাড়া সংক্রমিত পানির নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআরবিতে পাঠানো হয়েছে।
পৌর এলাকার বঙ্গজলের বাসিন্দা লাকি রানী বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর থেকে আমার শাশুড়ি অসুস্থ। রাতে বাসায় চিকিৎসা দিছি, হয়নি, সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাইছি। তিনি পাতলা পায়খানা আর বমি করতেছেন।
“বাসায় আমরা ট্যাপের জল ব্যবহার করি। কালকে সেই জল খাইছিল আমার শাশুড়ি। খাওয়ার পর থেকে এই অবস্থা।”
মঙ্গলবার রাত থেকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন ঝাউতলা মোড় এলাকার মোছা. তাসলিমা খাতুন। তিনি বলেন, “আমাদের ওইখানে পানির ট্যাংকি আছে, সেখান থেকে পানি খাওয়ার পর থেকে পাতলা পায়খান ও বমি হচ্ছে। শুধু আমি না, আমার এলাকার মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ ও পুরুষরাও এই সমস্যা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে।”
নাটোর সদর হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন; যাদের মধ্যে পুরুষ ৬৬, নারী ও শিশু ৮১ জন। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। তবে একসঙ্গে এত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স।
আক্রান্ত ব্যক্তি ও স্বজনরা বলছে, পৌরসভার সরবরাহ করা ট্যাপের পানি খেয়ে কাঠালবাড়িয়া, ঝাউতলা, বঙ্গজল ও পটুয়াপাড়ার বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ঝাউতলার বাসিন্দা আজিজুল হক কালু বলেন, “এলাকার প্রায় লোক, ঘরে ঘরে সব অসুস্থ। একই রকম সমস্যা, রাত থেকে সব ভর্তি আছে।”
উত্তর পটুয়ারপাড়া এলাকার আব্দুল জলিল ফকির বলেন, “পানিডা খাওয়ার পরে পাতলা পায়খানা আর বমি, প্যাটে কামড় মুচড় দিয়্যা। আর হাত-পা কেকড়ি-বেকড়ি হয়্যা আসে।
“পৌরসুভাত থেকি যদি কেউ একটু দেখত পানির ট্যাংকিডা, ত্যালে আমারেত এই অবস্থা হত না। হাজার হাজার মানুষ আইছে, আতঙ্ক। খালি পাতলা পায়খানা আর বমি।”
সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি তদারকির জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। সেইসঙ্গে আইডিসিআর ও সিটিসিকে জানিয়েছি। তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখবেন।
“চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে। স্যালাইনের ঘাটতি হলে অন্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে মেডিকেল টিম স্পটে গিয়ে চিকিৎসা দেবে। এ ছাড়া পৌরসভার মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে।”
নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “রোগীদের সঙ্গে কথা বলে যেটা মনে হয়েছে, পানি থেকে এটা হতে পারে। যেটা আলার্মিং বিষয়, পানি ফুটিয়ে না খাওয়া, যতজনের সঙ্গে কথা বললাম পানি না ফুটিয়ে খেয়েছে।
“পানির নমুনা বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বলতে পারব। রোগীরা স্যালাইন পেয়েছেন, তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে। এ ছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও সরবরাহ করা হয়েছে।”
বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।