১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর: ৩২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2025, 10:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:50 AM

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের প্রবেশ গেট ভাঙচুরের অভিযোগে ৩২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 

রোববার বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার কেএম সানোয়ার পারভেজ লিটন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম। 

মামলার নামধারী আসামিরা হল- লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ, একই বর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম, ২০১৯-২০ বর্ষের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ইমাম মেহেদি হাসান, একই বর্ষের ইংরেজি বিভাগের মিজানুর রহমান, দর্শন বিভাগের নাসিম বিল্লাহ, লোক প্রশাসন বিভাগের মাইদুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের রফিকুল ইসলাম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আলিম রেজা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আশরাফুল মোল্ল্যা, কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগের স্বপ্নিল অপূর্ব রকি, একই বিভাগের মুহাইমিনুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের আহসানুল্লাহ, পরিসংখ্যান বিভাগের রবিন, দর্শন বিভাগের আব্দুর রহমান রনি, মার্কেটিং বিভাগের মেহেদি হাসান ফাহাদ, সিএসই বিভাগের আব্দুল করিম ও রসায়ন বিভাগের মিরাজুল ইসলাম। 

এছাড়াও অজ্ঞাত ২৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনী জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে ক্ষতিসাধন ও খুন জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

মামলায় প্রধান স্বাক্ষী হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শুচিতা শরমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সহকারী প্রক্টর মারুফা আক্তার, মো. সাইফুল ইসলাম, সোনিয়া খান সনি, ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষী হিসাবে রয়েছেন। 

মামলার বরাতে ওসি বলেন, “শনিবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭তম সিন্ডিকেট সভা ছিল। সভাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীদের মদদে কিছু ছাত্র ও বহিরাগত অজ্ঞাতনামারা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। 

“আসামিরা দুপুর আড়াইটার দিকে লাঠি, লোহার রড, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপাচার্যের গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে তারা হুমকিমূলক শ্লোগান দিতে থাকে। এতে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধান করে।” 

এছাড়াও মামলার এজাহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য গোলাম রাব্বানী, ট্রেজারার মামুন অর রশিদ ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মুহসিন উদ্দিন সিন্ডিকেট সভা বয়কট করে অসহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য গোলাম রাব্বানী বলেন, “সেখানে মামলা করে আমাদের নাম উল্লেখ করার বিষয়টি বোধগম্য নয়। ছাত্রদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত।”

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মশাল মিছিল

এদিকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সুজয় শুভ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলা থেকে মশাল মিছিল বের করা হয়। 

মিছিলটি ক্যাম্পাস ও ভিসির বাসভবন ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় এসে শেষ হয় বলে জানান তিনি। 

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা

এদিকে এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে দাবি পূরণে ১২ ঘণ্টার ‘আল্টিমেটাম’ও দেওয়া হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-

১. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুর্নবাসন ঠেকাতে চলমান যৌক্তিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা ষড়যন্ত্রমূলক হয়রানি মামলা অবিলম্বে ৬ ঘণ্টার ভিতর প্রত্যাহার করতে হবে।

২. অবিলম্বে সিন্ডিকেট মেম্বারদের নাম প্রকাশ ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৩. আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত রেজিস্ট্রারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে অতিদ্রুত অপসারণ ঘোষণা করতে হবে। এবং ভিসি দফতরে যে সব আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আছে তাদেরও অপসারণ করতে হবে।

৪. ছাত্র সংসদের জন্য শিক্ষকদের দ্বারা কমিটি করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে হবে (বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী যে আইনটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে না সেটার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে অনুসরণ করবে।) ২৯ শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী এবং ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙচুরে জড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের সকল কর্মীদের অবিলম্বে একাডেমিক এবং আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনসহ গত ৩ ডিসেম্বরের দাবিগুলোর অগ্রগতি কতদূর তা শিক্ষার্থীদের কাছে ১২ ঘণ্টার মধ্যে স্পষ্ট করতে হবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শুচিতা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে।”

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাছে আসতে হবে। বলতে হবে। ভুল স্বীকার করলে তখন করবো।”

পুরানো খবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসার ফটক ভেঙে বিক্ষোভ শিক্ষার্থ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, কার্যালয়ে