১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এসএসসি: খাগড়াছড়িতে তিন বিদ্যালয়ের সবাই ফেল

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ; এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এসএসসি: খাগড়াছড়িতে তিন বিদ্যালয়ের সবাই ফেল
খাগড়াছড়ির তারাবানিয়া হাই স্কুল।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 05:30 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট-এসএসসি পরীক্ষায় আট বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি; যার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ির।

এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ; এর মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।

খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল নয় হাজার ৯৬৫ জন।

কেউ পাস না করা প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল এবং তারাবানিয়া হাই স্কুল। 

জানা গেছে, এই তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। ফলে তিনটি প্রতিষ্ঠানেই পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য। 

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে মোট সাত হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছেন দুই হাজার ৭৬৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৯০ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মাদ্রাসা থেকে মোট ৭৬৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৪০০ জন। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ছয়জন।

সব মিলিয়ে আট হাজার ৫৪৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে তিন হাজার ১৬৬ জন। ফলে সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ১৯৬ জন।

স্কুল পর্যায়ের ফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার মানিকছড়িতে ৪০ দশমিক ২১ শতাংশ। এরপর রামগড়ে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, লক্ষ্মীছড়িতে ৩৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, পানছড়িতে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং গুইমারায় ৩১ দশমিক ১২ শতাংশ। 

অন্যদিকে স্কুল পর্যায়ে সবচেয়ে কম পাসের হার দীঘিনালায়- ২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মহালছড়িতে পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মাটিরাঙ্গায় ৩২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মাদ্রাসা পর্যায়ে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে মানিকছড়ি; যেখানে পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পানছড়িতে ৪১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, মাটিরাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং গুইমারায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা বলেন, এ জেলার ফলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো খারাপ করেছে। দুর্গম বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সচেতনতার অভাব, অভিভাবকদের দারিদ্র্য ও শিক্ষক সংকট রয়েছে।

“শিক্ষকদের ভূমিকার ক্ষেত্রে আমি মনে করি, এখন নৈতিকতার এক ধরনের অভাব আছে। তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই জরুরি। পাহাড়ে যদি আমরা ভবিষ্যতে রেজাল্ট ভালো করতে চাই, তাহলে এই সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করতে হবে”, বলেন তিনি।