১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বর্ষবরণ: মারমাদের সপ্তাহব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব শুরু

বম, পাংখোয়া ও লুসাই ছাড়া অন্যরা ভিন্ন ভিন্ন নামে বর্ষবরণ সামাজিক উৎসবটি পালন করে থাকে।

বর্ষবরণ: মারমাদের সপ্তাহব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব শুরু
মারমাদের বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2026, 02:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:24 PM

নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এবং নেচে-গেয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়েছে মারমাদের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই পোয়ে

এ উপলক্ষে সোমবার সকালে উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বান্দরবান শহরে রাজার মাঠ থেকে একটি বণার্ঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন বান্দরবান আসনে সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় শিশু-কিশোরদের একটি দল।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় শিশু-কিশোরদের একটি দল।

শোভাযাত্রা শহরে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটে (কেএসআই) গিয়ে শেষ হয়। পরে কেএসআই অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বয়স্ক পূজা। এ অনুষ্ঠানে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের মোমবাতি, নগদ অর্থ ও নতুন পোশাক উপহার দেওয়া হয়।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ।

আয়োজকরা জানান, এবার ছয় দিনের উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১১-১২ এপ্রিল লোকজ খেলাধুলা, ১৩ এপ্রিল সকালে সাংগ্রাইয়ের মঙ্গল শোভাযাত্রা, ১৪ এপ্রিল বিকেলে বুদ্ধ স্নান ও সন্ধ্যায় পিঠার উৎসব, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, গুনী শিল্পীদের সম্মাননা, মৈত্রী পানি বর্ষণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় মারমাদের ঐতিহ্যহাী একটি সাংস্কৃতিক দল।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় মারমাদের ঐতিহ্যহাী একটি সাংস্কৃতিক দল।

নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে প্রতি বছরের মত এবারও শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে জেলায় বসবাসরত ১১টি জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। ১১টির মধ্যে বম, পাংখোয়া ও লুসাই ছাড়া অন্যরা ভিন্ন ভিন্ন নামে বর্ষবরণ সামাজিক উৎসবটি পালন করে থাকে।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ।

সাংগ্রাই বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ।

পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বিঝু-বিষুকে এক সঙ্গে বৈসাবি উৎসবও বলা হয়।

এদিকে বর্মি পঞ্জিকা অনুসরণকারীদের মধ্যে চাক সম্প্রদায় সাংগ্রাই, ম্রো চাংক্রান, খেয়াংরা সাংলান ও খুমীরা সাংক্রাই নামে বর্ষবরণ উৎসব পালন করে থাকে। তারাও হরেক রকম ফুলে ফুলে সাজিয়ে তোলে ঘরদোর। নানান আনুষ্ঠানিকতায় বরণ করে নেয় নতুন বছরকে।

এ ছাড়া নদীতে ফুল ভাসানোর (তাদের ভাষায় গছানো) মধ্য দিয়ে ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিঝু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু এবং ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসব। চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যারা নদীতে ফুল ভাসানোর দিন পালন করে ফুল বিঝু, দ্বিতীয় দিন পালন করে মূল বিঝু এবং শেষের দিন পালন করে গইজ্জা পইজ্জা নামে।

এসব দিনে পাচন নামে এক ধরনের খাবার রান্না করা হয়। যাতে থাকে নানান সবজি। উৎসবের দিনে বেড়াতে আসা অতিথিদের পরিবেশন করা হয় পাচন।