Published : 31 Mar 2026, 07:47 PM
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষায় থাকা শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন।
সচিব বলেন, “রাজশাহীতে আমাদের সন্তানরা, আমাদের বাচ্চারা, আপনারা যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেই মৃত্যুর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।”
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড আছে। এখানে আইসিইউতে একটি বেডের জন্য শিশুদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কোনো শিশু মারা গেলে কিংবা কিছুটা সুস্থ হলে অন্যদের ডাক পড়ে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর শিশুদের আইসিইউতে নিতে ডাক আসে।
এ অবস্থার মধ্যে শিশুদের সাধারণ অসুখের পাশাপাশি দ্রুত সংক্রমণ রোগ হামের প্রকোপ দেখা দেয়। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায় শিশু মৃত্যু।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, চলতি মাসের ২৮ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় চার হাজার ৫২২ জন শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ৩০৪ জন। এদের বেশী ভাগই আইসিইউর প্রয়োজন ছিল। আইসিইউ পাওয়ার আগেই তারা মারা যায়।

মঙ্গলবার এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তারা সার্বিক বিষয় নিয়ে সকালে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য সচিব আইসিইউর সাতটি ভেন্টিলেটরের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সচিব বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তারা সাতটি ভেন্টিলেটর এনেছেন। এগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়- এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে তারা রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করেছেন। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধিসহ যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো আছে সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান সচিব।

তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্যান্য সেবাগুলোও চালু হবে।
সচিব বলেন, “বিগত সময়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের আন্দোলনের কারণে হামের টিকা পায়নি শিশুরা। মায়েরা হয়ত যখন গেছে টিকা দিতে তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পায়নি। এজন্য এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া কিছু জটিলতায় টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। হামের প্রদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সেটিও একটি কারণ হতে পারে।
“হামসহ ১০ ধরনের টিকা ক্রয়ে এরই মধ্যে কমিটি ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। আমরা টাকাও দিয়ে দিয়েছি। দ্রুতই শিশুদের হামসহ প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। এ নিয়ে একটি টিম কর্মসূচি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে “
তিনি বলেন, “এ ছাড়া এবার হামের অন্যকোনো ধরন আছে কিনা তা গবেষণা করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি তাদের তিন সদস্যের একটি দল কাজ করছে।”
এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।