Published : 17 Oct 2024, 09:55 PM
নানা দাবি আদায়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির আওতায় নেত্রকোণায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে নেত্রকোণা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকা জেলার দশটি উপজেলা ও পাশের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগরসহ ১২টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
এতে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ৬ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক।
কর্মসূচি শুরুর পর স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আলোচনা শুরু করেন।
নেত্রকোণা সদরের চল্লিশা এলাকায় সমিতির দপ্তরে যায় সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদের অনুরোধেও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেননি সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম আবু সাইদ বলেন, “অভিন্ন চাকরিবিধি ও অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবিতে ১০ মাস ধরে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি।

“যৌক্তিক আন্দোলনের কারণে কয়েকদিন আগে আমাদের ২০জন কর্মকর্তাকে বিনা নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অব্যাহতি দেওয়া কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল, গ্রেপ্তার কর্মকর্তার মুক্তি দেওয়াসহ অভিন্ন চাকরিবিধি ও অনিয়মিত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবিতে কমপ্লিট শাটডউন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।”
বারহাট্টা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আরইবি (বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) ও পবিস (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) একত্র করার দাবি করা হয়েছিল সেটা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনের রুপ দিতে পাঁয়তারা করছে আরইবি।
“গত সরকার ছাত্র আন্দোলনে যেভাবে দমন পীড়ন করেছিল, আরইবি এখন আমাদের সঙ্গে সেটাই করছে। আমাদের ২০ জন কর্মকর্তাকে বিনা নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
“অব্যাহতি দেওয়া কর্মকর্তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল, মামলা প্রত্যাহারসহ সকল দাবি মেনে নিতে হবে।”
এদিকে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। উপজেলার সরকারি-বেসরকারি দপ্তরগুলোতে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। হাসপাতাল, ক্লিনিকে বিঘ্নিত হয় চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নানা পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়।

কেন্দুয়া পৌরশহরের ব্যবসায়ী আমিনুল হক বলেন, “সকাল থেকে বিদ্যুৎ নাই, দোকানের ফ্রিজে থাকা সব মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। বিদ্যুৎ অফিসে কল দিয়েও কাউকে পাচ্ছিলাম না। পরে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বিদ্যুৎ আসে। আমরা সারাটাদিন ভোগান্তিতে আছিলাম।”
মদন পৌর শহরের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম রুনু বলেন, “সারাদিন কোনো কাজ কর্ম করতে পারছি না। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ আইছে। আগে থেকে না জানায়া এইবায় বিদ্যুৎ বন্ধ কইর্যা আমরারে ভোগান্তিতে ফালানো ঠিক অয় নাই।”
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুত সমিতির জি এম প্রকৌশলী মো. মাসুম আহমেদ বলেন, “আমি অফিস প্রধান হিসেবে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে শাটডাউন তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছি সারাদিন। গ্রাহকদের ভোগান্তি কোনো ভাবেই কাম্য নয়।”
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, “জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস, নেত্রকোণায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ আমি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই বৈঠকে প্রশাসনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেন।”