ফেনীতে মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

ভাঙনের অংশ দিয়ে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি ঢুকে বহু ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে; তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আমনের চারা।

নাজমুল হক শামীমফেনী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 12:54 PM
Updated : 19 Sept 2022, 12:54 PM

ভারতীয় উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে ফেনীর ফুলগাজীতে বেড়িবাঁধের দুই স্থানে ভেঙে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 

ভাঙনের অংশ দিয়ে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি ঢুকে বহু ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আমনের চারা। 

এ বছর দ্বিতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়ল এই এলাকার মানুষ। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, উজানের ঢল এবং কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুর অংশে সোমবার সকালে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

“এতে করে উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, ঘনিয়ামোয়া ও জগতপুর গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৬ ঘণ্টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।” 

উত্তর দৌলতপুর গ্রামের শফিউল্লাহ বলেন, “হঠাৎ বন্যার পানিতে আমার রোপা ২৫০ শতক আমনের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে কয়েকটি মাছের ঘের।” 

দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার ১২৫ শতক জায়গায় আমনের চারা লাগিয়েছিলেন। পানি ঢুকে পুরোটাই তলিয়ে গেছে। 

“বানের পানি কাদাযুক্ত হওয়ায় খুব সহজে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। সোমবারের মধ্যে পানি না নামলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে বিপুল অংকের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।” 

এর আগে রোববার বিকাল থেকে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী বাজার অংশও প্লাবিত হয়। রাতে ফুলগাজী বাজারে পানি উঠে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক দোকানপাট। তবে সোমবার সকালে বাজারের পানি নেমে যায়। 

মহিলা কলেজ রোডের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর এভাবে বন্যার পানিতে বাজার তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন্নাহার জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনকৃত অংশগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, পানি নেমে গেলে ভাঙনকৃত অংশগুলো মেরামত করা হবে। 

চলতি বছরে এটি ফুলগাজী উপজেলায় দ্বিতীয় দফার প্লাবন। এর আগে গত ২০ জুন মুহুরী নদীর চারটি স্থানে ভাঙনের ফলে ২২টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক