০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আরাকানের জমিন আমাদের, রোহিঙ্গারাই পাবে ইনশাল্লাহ: আরসা প্রধান জুনুনি

বান্দরবানে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

আরাকানের জমিন আমাদের, রোহিঙ্গারাই পাবে ইনশাল্লাহ: আরসা প্রধান জুনুনি
বান্দরবানের আদালত চত্বরে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি।

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Apr 2025, 06:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:27 PM

মিয়ানমারের আরাকানের জমিন রোহিঙ্গাদের বলে মন্তব্য করেছেন আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি। 

বান্দরবানে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা আরাকানে জমি পাবে। আমরাই পাব ইনশাল্লাহ। আরাকানের জমিন আমাদের।”

এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। 

রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসা প্রধান জুনুনিকে সোমবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় হাজির করা হয়। জুনুনির আইনজীবী জামিনের জন্য আবেদন করেন।  

শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা দায়রা ও জজ অরুণ পাল এবং মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ  বিচারিক নাজমুল হোসাইনের আদালতে দুটি মামলাতেই তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) বিশ্বজিৎ সিংহ জানান।

তিনি বলেন, “দুটি মামলার তদন্ত শেষে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারের শুনানি ছিল। পরে আদালত তাকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

আরসা প্রধান জুনুনি গ্রেপ্তার, ১০ দিনের রিমান্ডে

ময়মনসিংহে ভবন ঘিরে আটক করা 'চারজন' কারা?

তমব্রু সীমান্তে ডিজিএফআই কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মামলা

“২০২২ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৫০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। দুই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন আরসা প্রধান জুনুনি।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে জুনুনিকে বান্দরবানের আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। জনুনি একটি সাদা মাইক্রোবাসে ছিলেন। সামনে-পেছনে পুলিশের দুটি ভ্যান ছিল। তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও ছাই রংয়ের টি-শার্ট। গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট পরিহিত ছিলেন তিনি। 

আদালত চত্বর থেকে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় বাইরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ছিল। 

দুপুর ১টার দিকে দুটি মামলার শুনানি শেষ হয়। তখন পুলিশের সদস্যরা ঘিরে রেখে হাতকড়া পরা অবস্থায় জুনুনিকে গাড়িতে তোলার জন্য নিয়ে আসেন। তখন আদালতের দরজার কাছে সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

জনুনি তখন বুড়ো আঙ্গুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলেন। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তাকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।   

১৬ ও ১৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি পল্লি এবং ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরসার প্রধান জুনুনিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।