Published : 16 Jan 2026, 10:19 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে শনিবার। মাঝখানে নির্বাচনি প্রচারে ব্যাঘাত ঘটায় প্রার্থীদের সময় বাড়ানোর দাবিকে আমলে নেয়নি শাকসু নির্বাচন কমিশন।
সোমবার নির্বাচন কমিশন-ইসির আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাকসু নির্বাচন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তারপর যথাসময়ে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সোমবার ভোর রাত পর্যন্ত আলোচনা, মঙ্গলবার ফের বিক্ষোভ, প্রশাসনে সঙ্গে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আলোচনা, বুধবার দুপুর পর্যন্ত স্মারকলিপিতে প্রার্থীদের স্বাক্ষর গ্রহণ এবং ইসির কাছে নির্বাচনের দাবিতে রাতে স্মারকলিপি পাঠান প্রার্থীরা।
এতে করে প্রার্থীরা তিন দিন ধরে স্বাভাবিক নির্বাচনি প্রচার করতে পারেননি বলে অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, তাদের প্রচারে কোনো দলীয় প্যানেলের সহায়তা নেই।
নির্বাচনি প্রচারের বিষয়ে আচরণ বিধিতে বলা হয়, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের প্রচার বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে প্রচার সীমাবদ্ধ থাকবে।
শাকসু নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ৯টায় থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসাবে রোববার সকাল ৯টা শেষ সময়। কিন্তু আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের শনিবার রাত ১০টার মধ্যে প্রচার শেষ করতে হবে এবং পরের দিন সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা প্রচার চালাতে পারবেন তারা।
ছাত্রদল সমর্র্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “নির্বাচনি প্রচারের জন্য ১৮ তারিখ রাত পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছি। কিন্ত তারা আমাদের কথা কর্ণপাত করেনি। তিন দিন ধরে আমরা কোনো প্রচার করতে পারিনি। যথাসময়ে শাকসু আয়োজনের আন্দোলনে আমাদের দিন কেটেছে। প্রশাসনের সৃষ্টি করা জটিলতায় আমরা তিন দিন ধরে ক্যাম্পেইন করতে পারিনি। আর প্রশাসন একদিন সময় আমাদের দিতে পারবে না।
“আমার মনে হয়, সময় যদি একদিন বাড়ানো হয়, কেউ মনে হয় না আপত্তি করবে। সময় বৃদ্ধি করা যৌক্তিক।”
ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাকিল বলেন, “ইসির প্রজ্ঞাপনে আমাদের শাকসু স্থগিত হয়ে গেছে। এ কারণে গত তিন-চার দিন আমরা প্রচার করতে পারিনি। প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, তারা যাতে সময়টা বাড়ায়।
“বিশেষ করে আমরা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছি, আমাদের এক্ষেত্রে বেশি বেগ পোহাতে হচ্ছে। আমি তো এখনো আবাসিক হলগুলোতে পৌঁছাতে পারেনি। এ ছাড়া আরও বাইরের এলাকা আছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা থাকেন। এসব এলাকাগুলোও বাকি একদিনে কাভার করা সম্ভব না। এসব বিষয়গুলো বিবেচনা সময় বর্ধিত করা উচিত কমিশনের।”
‘সাধারণ’ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্য স্বর’ এর ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, “ইসির স্থগিতাদেশের প্রজ্ঞাপনে আমাদের নির্বাচনি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা আন্দোলন করব, নাকি ক্যাম্পেইন করব? বিশেষ করে আমরা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাদের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি পড়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হয়। এই সময়সীমা যদি কমিয়ে ১২ বা অন্তত ২৪ ঘণ্টা করা যেত, তাহলে প্রার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা হত।”
এ বিষয়ে শাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, “এখন নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। যেহেতু গতকালের ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে শাকসু নির্বাচন আয়োজন করার জন্য। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিধিতেও বলা হয়েছে নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। তাই আমরা যদি সময় বাড়াই, তাহলে আরেকটা সমস্যা সৃষ্টি হবে। এজন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই থাকতেছি।”