Published : 21 Jun 2026, 05:19 PM
গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় মধুমতি, বাঘিয়ার নদী ও কুমার নদের শাখার তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং বিভিন্ন বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি স্থানের ভাঙনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন জেলার সংসদ সদস্যরা।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান বলেন, “গত ২-৩ বছর ধরে ভাঙন প্রতিরোধে জেলায় অর্থ বরাদ্দ নেই। তাই বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে নদীভাঙন বেড়েছে।”

দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ক্ষতি ও ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে বলেও শঙ্কার কথা জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় মধুমতি নদীর শাখা নদীর তীরবর্তী ১৩টি স্থানে, কাশিয়ানী উপজেলায় মধুমতি ও কুমার নদসহ শাখা নদীর তীরবর্তী ১৯টি স্থানে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় মধুমতি ও বাঘিয়ার নদীসহ শাখা নদীর তীরবর্তী ৯টি স্থানে এবং কোটালীপাড়া উপজেলায় একটি স্থানে পাড় ও বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনের কারণে নদী তীরবর্তী কিছু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্মুখীন। এছাড়া কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে।
সদরের মধুমতি পাড়ের মানিকহার গ্রামের চরপাড়ার বাসিন্দা হেদায়েতুল ইসলাম খান (৬৮) বলেন, “২০০০ সালে তিনি নিরাপদ জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। ধীরে ধীরে তার বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন বসত বাড়িও নদীতে যাওয়ার উপক্রম।”

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, “দীর্ঘদিন সরকারিভাবে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি আমাদের এলাকায় একটি বালুর বস্তাও ফেলা হয়নি। ভাঙনের কারণে আশপাশের অনেক পরিবার আগেই বাড়িঘর ও জমি হারিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।”
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা গ্রামের বাঘিয়ার নদী তীরবর্তী গজালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুল শেখ (৫৫) বলেন, “আমাদের এখানে প্রায় ৫ বছর আগে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁধ দেওয়ার জায়গাটা আগের মতো নেই। বর্তমানে নদী প্রায় ১০ থেকে ১২ হাত ভেতরের দিকে ভেঙে চলে এসেছে। আমার বসতঘর থেকে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাত দূরে ভাঙন চলে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই এলাকায় ১৫ থেকে ২০টি পরিবার বসবাস করি। এখন আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। যে কোনো সময় আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে যেতে পারে, এমনকি আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হতে পারে। এই কারণে কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। ”

একই এলাকার মো. শুকুর আলী শেখ (৫২) বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে একটি রাস্তা ছিল, যেটি দিয়ে আমরা চলাচল করতাম, এখন সেটি নদীতে বিলীন হয়েছে।”
এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নদীভাঙন রোধ, তীরবর্তী জনদুর্ভোগ কমানো এবং অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী।
এ বিষয়ে ডা. কে এম বাবর বলেন, “গোপালগঞ্জ-২ আসনের মধুমতী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছি।
“তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টদের ব্লক ও জিওব্যাগের ব্যবস্থা করতে বলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের বসতবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করব।”