Published : 07 May 2026, 09:35 PM
সাভারে ‘কুলি বিট’ বা কুলি খরচের নামে অতিরিক্ত ইজারার টাকা আদায়ের অভিযোগে ধর্মঘট করছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশের ব্যবসায়ীরা বাজারগুলোতে মুরগি সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা।
দুপুরে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি সাভার পৌরসভার রেডিও কলোনি হতে ব্যাংক টাউন পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে মালামাল বহনকারী পরিবহন লোড-আনলোডের জন্য ‘কুলি বিট’ নামে ইজারার টাকা দেওয়া হয়। আগে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৮০ টাকা করে দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে ইজারাদারের লোকজন মুরগি নামানো এবং উঠানোর সময় ‘কুলি বিট’ হিসেবে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দাবি করে আসছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেরাই শ্রমিক দিয়ে মালামাল ওঠানামা করালেও ‘চাঁদা’ দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অনেক সময় গাড়ি আটকে রাখা এবং চালকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।
বৃহত্তর সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান সিকদার বলেন, “কয়েকদিন আগে সাভারের পাকিজা মোড়, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকটি মুরগি বোঝাই পিকআপ আটকে অবৈধভাবে বাড়তি টাকা আদায় করে।”
তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা গাড়ি চালক ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।”
সংগঠনটির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, “মুরগির গাড়িপ্রতি ৮০ টাকা করে পার্কিং চার্জ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু আলমগীর হোসেন, শ্রাবণ মিয়া ও জুয়েল মিয়াসহ আরও কয়েকজন প্রতি পিস মুরগির জন্য এক টাকা হারে চাঁদা দাবি করছেন, যার কোনো সরকারি বা আইনি ভিত্তি নেই।”
এদিকে, ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধের স্থায়ী সমাধান না হলে এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মুরগির ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছিলেন। তারা যে অভিযোগ করেছেন, সে বষয়ে আমি ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলে তাদের আসতে বলেছি। আসলে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”
সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “মুরগি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুই পক্ষকেই আলোচনা করে সমাধান করতে বলেছি।”
এ বিষয়ে ‘কুলি বিট’ ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা বলেন, “পৌরসভা থেকে যখন আমরা ইজারা নিয়েছি তখন আমাদেরকে মুরগিপ্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই হিসাবে আমরা টাকা নিচ্ছি। ব্যবসায়ীরা গাড়িপ্রতি যে ৮০ টাকার কথা বলছে এটা সঠিক নয়। ২০২০ সালে পৌরসভায় ত্রিপক্ষীয় এক সমঝোতার মাধ্যমে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৩৫০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কখনো ৮০ টাকা ছিল না।
“কিন্তু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমরা নাকি চাঁদা নিতেছি। ইউএনও সাহেবও আমাকে বলেছেন, মুরগির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টা সমাধান করার জন্য। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমার কাছে আসেন না। তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন।”