Published : 22 Sep 2025, 08:29 PM
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েটে সংঘর্ষের সাত মাস পর পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্ক করা হয়েছে ৩২ শিক্ষার্থীকে।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক বি এম ইকরামুল হক।
সোমবার শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এক বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন এমএসসির শিক্ষার্থী সালিম সাদমান। আর ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন- লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওমর বিন হোসাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২১ ব্যাচের শান্ত ইসলাম, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. হৃদয় এবং ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের সাফওয়ান আহমেদ ইফাজ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৯৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি।
ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটি ২৫ অগাস্ট থেকে ২৭ অগাস্ট এবং ২১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগপত্র, ভিডিও ফুটেজ, কারণ দর্শানোর নোটিস ও তার উত্তর যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।
ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ইকরামুল হক বলেন, পাঁচ শিক্ষার্থীর একজনকে এক বছর ও চারজনকে ছয় মাস করে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ৩২ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের বিভাগ ও প্রত্যেককে অবহিত করা হয়েছে।
১৮ ফেব্রুয়ারি ঘটনার পরদিন সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম এম এ হাসেমকে প্রধান করে চার সদস্যের ওই কমিটি করা হয়। পরে ১৪ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনের মুখে ২৩ এপ্রিল সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।
আন্দোলনের জেরে ২৬ এপ্রিল কুয়েটের উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যকে অপসারণ করে সরকার। ১ মে চুয়েটের অধ্যাপক হজরত আলীকে অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও শিক্ষকদের বিরোধীতার মুখে ২২ মে সরে যান তিনি।
পরে ২৪ জুলাই বুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ১৬০ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ২৯ জুলাই কুয়েটে আবার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
কুয়েটে সংঘর্ষ: ৩৭ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, হল খুলবে ২ মে