Published : 03 Jun 2026, 07:56 PM
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুকন্যার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকাল ৪টার দিকে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয় বলে জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান।
নিহতরা হল- বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪), তাদের মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)।
ইতি জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
খবর পেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক লিটন বলেন, “আমি দুপুর ২টার দিকে ডাকবাংলোয় আসি। এসে ভাত খেয়ে উপরে উঠে দেখতে পাই, পাশাপাশি দুটি কক্ষের একটি কক্ষের দরজা খোলা। একটু সামনে গিয়ে দেখি, ইতির বড় মেয়ে অচেতন অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে।
“অপর একটি রুমের দরজা বন্ধ দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের লাশ উদ্ধার করেন।”
ইতির স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আমি সকালে সুপারি নিয়ে আমতলী বাজারে যাই। আমতলী থেকে ফিরে ওদেরকে ঘরে দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে জিজ্ঞাসা করি। তখন তারা জানায়, ইতি তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে।
“কিছুক্ষণ পরেই আমাকে এলাকার এক বড় ভাই গিয়ে জেলা পরিষদ ডাকবাংলায় নিয়ে আসে এবং এসে এই অবস্থা দেখতে পাই।”
নিহত ইতির বড় বোন রিতা রানি বলেন, “তাদের পরিবারে কোনো ঝামেলা ছিল না। শুধু বিভিন্ন কিস্তি ছিল। ঋণ থাকায় সব সময় খুব টেনশনে থাকত আমার বোন।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
“সিসিটিভির ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে আরও গভীর তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।”