Published : 31 Jul 2024, 05:07 PM
বরিশালে শিক্ষার্থীদের 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে শহরের দুটি পয়েন্টে সদর রোডের অশ্বিনীকুমার হলের সামনে এবং জজ কোর্টের সামনে ফজলুল হক এভিনিউতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
এ সময় দুই ছাত্রীসহ অন্তত ১৩ জন আন্দোলকারী শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী বরিশালের স্থানীয় এক পত্রিকার সাংবাদিক (আলোকচিত্রি) জুয়েল রানা জানান, নগরীর ফকিরবাড়ি রোড থেকে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে। সদর রোডের প্রবেশ মুখে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করবে বলে পুলিশকে আশ্বস্ত করে। এরপরও পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে তারা জজ কোর্টের সামনে ফজলুল হক এভিনিউতে জড়ো হলে সেখানেও পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
“এ সময় তুবি তুলতে গেলে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার আলোকচিত্রি শামীম আহমেদ ও যমুনা টিভির ক্যামেরা পার্সন হৃদয়সহ অন্তত পাঁচ সাংবাদিক পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।”
এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় শামীম আহমেদসহ তিনজনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান জুয়েল।
শিক্ষার্থীদের 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের বরিশাল জেলার সমন্বয়ক মনিষা চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচি ছিল। সেখানে পুলিশ এসে হামলা করেছে। আমি জানতে পেরেছি, পুলিশের হামলায় নারী শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
“পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার চালিয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানাই।”
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়া শিক্ষক বিপ্লব দাস বলেন, “শিক্ষার্থীরা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচি পালন করেছে। তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডেকেছিল। তারা সবাই আমার ছাত্র। সে কারণে আমি এসে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
এ শিক্ষক বলেন, “পুলিশ সকাল থেকে সড়ক আটকে রেখেছিল। নিরীহ ছাত্রদের ওপর পুলিশ ইচ্ছেমতো লাঠিপেটা করেছে। শিক্ষার্থীরা সদর রোড থেকে জজ কোর্টের সামনে যখন গেছে। তখনও পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করেছে।

“ছাত্ররা তো কোন গোলোযোগ করছিল না। তারা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা কোন ধরনের সংঘাতও করছিল না। তারা নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে শ্লোগান দিচ্ছিল। সেই ছাত্রদের পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। শতাধিক ছাত্র মনে হয় আহত হয়েছে। তবে কতজন ছাত্রকে পুলিশ আটক করেছে, সেটা বলতে পারবো না।”
বরিশাল মহানগর উপপুলিশ কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসংগঠনের কিছু নেতা রাস্তা অবরোধ করেছিল কোর্টের সামনে। কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তারউপর তারা পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে; ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ছাত্ররা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টাও করেছে।”
এ পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে বেশ কিছু ‘শিবিরের’ ছাত্র ছিল। তাদেরকেও তারা আটক করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

হামলার শিকার যশোর ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মৌসুমী বলেন, “আমি তো শিবির করি না। আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। পুরুষ পুলিশরা এসে আমাদের ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে। চুল ধরে লাঠিপেটা করছে। কম করে হলেও ৫০ থেকে ৬০ জনকে মারছে তারা।”
এ বিষয়ে সিলেট কোতয়ালি মডেল থানার এসআই নিশাত বলেন, “দুই ছাত্রীসহ মোট ১৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশকে তাদের পরিবারের জিম্মায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখন দুই-তিনজন থানায় আছে।”