Published : 28 Aug 2026, 01:09 AM
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
গুলিবিদ্ধ তাহেরা বেগম ও ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ছেলে ইউসুফের অবস্থা আশংকাজনক। তার মাথার বাম পাশের সামনে দিয়ে গুলি ঢুকে পেছন দিকে বেরিয়ে গেছে। তাহেরা বেগমের পেটে গুলি লেগেছে।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহেরা বেগমের গুলির 'এক্সিট পয়েন্ট' নেই। এর অর্থ গুলি ভেতরে রয়ে গেছে।
তাহেরা বেগমের স্বামী নুর আলম বলেন, “শুনেছি আরএসও গুলি করেছে। কী কারণে করলো কিছুই জানি না। আমি কখনো কারো ক্ষতি করিনি৷ আমার ছেলেটার মাথার মগজ বেরিয়ে গেছে।“
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক ব্যক্তি বলছেন, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এআরএ, আরসা ও আরএসও সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যাম্পের এক তরুণ নেতা দাবি করেন, সংঘর্ষ চলাকালে ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলিবর্ষণ হতে পারে।
ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা বলেন, সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ গোলাগুলি রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলছিল।
এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।