Published : 01 Dec 2024, 12:52 AM
বগুড়া শহরে শেষ হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী কবি সম্মেলন। লেখক চক্রের আয়োজনে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সম্মেলন ঘিরে বসেছিল কবি-সাহিত্যিকদের মিলন মেলা।
তিন যুগ ধরে হয়ে আসা এ সম্মেলনে প্রতি বছর ভারতীয় কবি, সাহিত্যিকরা আসলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এবার তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
শনিবার সমাপনী দিনে বিশেষ কাজের ভূমিকার জন্য পাঁচজন কবি-সাহিত্যিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এবার সম্মেলনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুষ্টিয়া, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১৪০ জন কবি-সাহিত্যিকের আগমন ঘটে।
কবিতায় জুয়েল মাজহার, কথা সাহিত্যে দিলারা মেজবাহ, প্রবন্ধে অনীক মাহমুদ, লিটিল ম্যাগাজিনে শেলী সেন গুপ্তা এবং গবেষণায় সানজিদা হক মিশুকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন লেখক চক্রের উপদেষ্টা প্রফেসর মো. শহীদুল্লাহ্।
জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কবি সম্মেলনের ভেন্যু হলেও কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডা জমে উঠে গোটা চত্বরে। সম্মেলন ভেন্যুর বাইরে বই, লিটল ম্যাগ, পিঠা পুলির স্টল বসে।
দুদিনের কবি সম্মেলনে প্রথমদিন শুক্রবার সকাল ১০টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কবি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সমবায় অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কবি প্রাবন্ধিক আমিনুল ইসলাম।
উদ্বোধনের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে একটি শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উদ্বোধন পর্বে সভাপতিত্ব করেন সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বগুড়া লেখক চক্রের উপদেষ্টা গবেষক বেলাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক।
বাচিক শিল্পী অলক পালের সঞ্চালনায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান, বগুড়া লেখক চক্রের উপদেষ্টা কবি-প্রাবন্ধিক প্রফেসর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল ও বগুড়া লেখক চক্রের উপদেষ্টা কবি-প্রাবন্ধিক খৈয়াম কাদের বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে ছিল কথা ও কবিতা, কবির উপস্থিতিতে কবিতা আবৃত্তি, বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার প্রদান, ‘তরুণদের বেড়ে ওঠায় সাহিত্য সংগঠনের’ ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা।
উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর খৈয়াম কাদির, সমবায় অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোতাহার হোসেন এবং লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক।
বরিশাল থেকে কবি সম্মেলনে এসেছেন নাহিদা আশরাফুন। তিনি জানান, টানা ৩৬ বছর ধরে হয়ে আসা এ অনুষ্ঠান সত্যিই একটা অনন্য দৃষ্টান্ত। সাহিত্যের অনুসর্গ হলো আড্ডা, সেই অনুসর্গ ছিল বগুড়ার কবি সম্মেলনে।
দিনাজপুরের নিরন্জন হিরা বলেন, জাতীয় কবি সম্মেলনের চেয়ে বগুড়ার এই আয়োজন কোনো অংশে কম নয়। ঢাকার বাইরে এমন আয়োজন আগে দেখেননি তিনি।
তবে, প্রতি বছরের মত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কবিরা এলে এই আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠত বলে মনে করেন তিনি।
লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক জানান, কবি সম্মেলনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরে সবাই আনন্দিত। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার ভারতের কবিদের আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।