Published : 20 Sep 2026, 09:30 PM
যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষায় বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অগ্রগতি দেখা গেছে।
এবারের মূল্যায়নে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে।
ডিএফটির গত বছরের মূল্যায়নে শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানীর ৯৪ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শাহজালালের স্কোর ১ শতাংশ এবং ওসমানীর স্কোর ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এই অডিটে শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী, কার্গো ও মেইল নিরাপত্তাসহ এভিয়েশন সিকিউরিটির নানা দিক পর্যালোচনা করা হয়। তাতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। কার্গো সংক্রান্ত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট’-এ শতভাগ প্রতিপালন (কমপ্লায়েন্স) অর্জিত হয়েছে বলে নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।
বেবিচক বলছে, ডিএফটি অডিটের এই ফলাফল আসন্ন আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইকাওয়ের ‘ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম–কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ’ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই নিরীক্ষায় বেবিচক সদর দপ্তর, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে।
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর আসিফ ইকবাল বলেন, “এই অর্জনের পেছনে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটি (অ্যাভসেক) বিভাগ, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা মূল ভূমিকা পালন করেছে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধ ও এইচআরসিএম প্রসঙ্গ
বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল (এইচআরসিএম) ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা শর্তের মুখোমুখি হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপগামী কার্গো ও মেইলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণের অতিরিক্ত সময় এবং বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয়।
বেবিচক বলছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এইচআরসিএম সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে তুলে ধরেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী উচ্চঝুঁকির কার্গো ও মেইলের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযোজ্য এবং এ ধরনের ঝুঁকি নির্ধারণ ইইউ রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বেবিচকের ভাষ্য, সাম্প্রতিক ডিএফটি অডিটের ইতিবাচক ফলাফল এবং কার্গো নিরাপত্তায় উচ্চমাত্রার অনুগত্য বা কমপ্লায়েন্স বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির পক্ষে সহায়ক তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিষয়।