Published : 07 Feb 2026, 06:23 PM
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “আল্লাহতালা যদি আমাদেরকে এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করতে পারবে না। দেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় গেলে দেশের এক ইঞ্চি জমিতেও বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির পথ বন্ধ করতে পারলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।’’
নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কোনো অফিস-আদালত বা কার্যালয়ে কারো ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহসও হবে না। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে প্রতিটি নাগরিক। বর্তমানে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনসাফভিত্তিক নয়। সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এটা পর্যাপ্ত নয়।’’
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “যারা জনগণের হক আত্মসাৎ করেছে, তারা যদি স্বেচ্ছায় ফেরত দেয় তাহলে অবশ্যই তারা অভিনন্দিত হবে। কিন্তু যদি ফেরত না দেয়, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ ওদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে অর্থ বের করে নিয়ে আসবে। উদ্ধার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত করা হবে এবং সেই অর্থ দিয়েই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে।’’
বঞ্চিত এলাকায় সর্বপ্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বলেও বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী হব কিনা আল্লাহ ভালো জানেন। কে হবেন, কে হবেন না- এটা আল্লাহর ফয়সালা। তবে দায়িত্ব পেলে ইনসাফের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যদি এমন কিছু আমার দায়িত্বে এসে যায়, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চিতেও আমি বেইনসাফি করতে পারব না। প্রতি ইঞ্চি মাটি তখন আমার কাছে তার পাওনা বুঝে নেবে।’’
শফিকুর রহমান বলেন, “এই সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তারই উত্তরসূরী। বাংলাদেশ গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াত ইসলামী। তবে আমরা ২০২৪ এর ৫ অগাস্টের পরই বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। আমরা মামলা বাণিজ্য করেনি। কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে।’’

‘সিলেটকে আর বঞ্চিত রাখা হবে না’
সিলেটকে আর বঞ্চিত রাখা হবে না- মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রবাসী নির্ভর এই সিলেটের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কিন্তু নামে আন্তর্জাতিক, কাজে নয়। যদি এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়, তাহলে সব এয়ারলাইন্সের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন? এতদিন ধরে এটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয় না কেন? ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নামে নয়, বাস্তব অর্থেই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়া হবে।’’
লন্ডনের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন? আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌঁড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের থাবা মেলে সামনে আগাতে চাই। তাই বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।’’
সিলেট অঞ্চলের হাওরাঞ্চল-কৃষি ও মৎস্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জ হাওর-বাওর এলাকা। সুনামগঞ্জ থেকে দেশের খাদ্যের পাঁচ ভাগ আসে, একটা বড় অংশ। অথচ এই এলাকাগুলো অবহেলিত। বাঁধ ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়। যারা বাঁধের টাকা পেটের ভেতরে ঢুকায়, এই ইঁদুরগুলো আর বাঁধ কাটার সুযোগ পাবে না। বাঁধ কাটার ইঁদুরগুলো বন্ধ করা হবে।’’
চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “এই মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকানো যায় না। নারী-পুরুষ সবাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। কিন্তু শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই। সন্তানরা অনাদরে বড় হয়। তারা এই দেশের নাগরিক তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।’’
সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘একবার আমাদের সুযোগ দিন। আপনাদের মালিক হব না। আপনাদের জীবন, সম্পদ আর ইজ্জতের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা চৌকিদারের কাজ করব। পাহারা দেব ইনশাআল্লাহ।”