Published : 14 Jan 2026, 05:28 PM
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ মাছের একটি চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ঘোষণাপত্রে সাদা মাছ দেখালেও কায়িক পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে চালানটি আটক করা হয় বলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানান।
পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য মাছগুলি খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা দুটি ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ হলে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাড় মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ মাছ। যার বাজার মূল্য প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
পণ্য চালানটির ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল’। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশের ‘সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ’।
উভয়পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস থেকে জানা গেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, “ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফাইজুর বলেন, “কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”