Published : 20 Jun 2026, 10:52 AM
ক্রিকেটের বলয়ে ফেরার পর অনেকটা সময় কেটে যাচ্ছে মাঠেই। মাঠ থেকে হোটেলে ফিরে অবসর সময়ের সঙ্গী ভিডিও গেমস। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গেও কাটছে ফুরফুরে সময়। সব মিলিয়ে আপাতত বেশ ভালোই আছেন নাঈম হাসান। এক সপ্তাহ আগের সেই দুঃস্বপ্ন মাঝেমধ্যে উঁকি দেয় বটে। সেই মানসিক ‘ট্রমা’ এত সহজেই শেষ হওয়ার নয়। তবু যতটা পারা যায়, স্বাভাবিক হয়ে উঠছেন এই অফ স্পিনার।
গত ১২ জুন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজারে পুলিশের হাতে মারধর ও হেনস্থার শিকার শিকার হন নাঈম। পরে থাকে থানায়ও নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় গোটা দেশে। পরে খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়, সাময়িক বরখাস্ত করা হয় আরও দুই পুলিশ সদস্যকে।
ওই ঘটনার পর মানসিকভাবে প্রবল বিপর্যস্ত ছিলেন নাঈম। দুঃসময়ে ক্রিকেটই হয়ে ওঠে তার রক্ষাকবচ। দুদিন পরই তিনি বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সঙ্গে যোগ দেন সিলেটে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচ খেলার জন্য।
ভয়ঙ্কর এই অভিজ্ঞতার পর ম্যাচটি তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন অনায়াসেই। তবে মূলত বিসিবির চিকিৎসকদের পরামর্শেই দ্রুত মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্ত্রী-সন্তানও তার সঙ্গে থাকায় কিছুটা ফুরফুরে থাকতে পারছেন। মানসিকভাবে তাকে চাঙা রাখছেন সতীর্থরাও।

২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শোনালেন, সিলেটে তার সময়টা এখন কেমন কাটছে।
“এখানে (সিলেটে) আসার পর কেউ ওই ঘটনা (পুলিশের হাতে হেনস্থা) নিয়ে কোন কথা বলেনি। অনুশীলনের সময় শুধু ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেছি। নিজের বোলিং নিয়ে ভেবেছি। মনোযোগ পুরোপুরি ক্রিকেটে দিতে পেরেছি। এটা আমাকে বেশ স্বস্তি দিচ্ছে।”
“অনুশীলন আর ম্যাচের পাশাপাশি হোটেলে পরিবারকে সময় দিচ্ছি। হোটেলে বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলার সুবিধা আছে। মাঠে খেলার পাশাপাশি ওখানে গেমস খেলে সময় কাটাচ্ছি। যেভাবে পারছি, নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি। এতে ওই ঘটনা চিন্তাভাবনায় প্রভাব রাখতে পারছে না।”
নাঈম বললেন, কঠির সময়ের সঙ্গে লড়াইটা সহজ হয়েছে স্ত্রী পাশে থাকায়।
“প্রচুর গেমস খেলতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে গেমস জোনে গিয়ে যেন নিজেকে ব্যস্ত রাখি, স্ত্রী প্রতিনিয়ত সেই উৎসাহ দিচ্ছে। রুমে থাকলে সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে সময় কাটছে। এতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারছি, আমার মধ্যে স্বস্তিবোধ কাজ করছে।”
তবে মনের কোণে শঙ্কার ছায়া তো এখনও কিছুটা আছেই। এমনিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটে খুবই শান্ত ও ভদ্র ছেলে হিসেবেই বরাবর নাঈমের পরিচিতি। খুবই মৃদুভাষী তিনি। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় ভেতরে ভেতরে আরও গুটিয়ে গেছেন তিনি।
“আমি তো এমনিতে খুব সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করি। কিন্তু যা হলো…এরপর স্বাভাবিক জীবন কাটানো কঠিন। সিলেটে আসার পর হোটেল আর মাঠ ছাড়া কোথাও যাইনি। এই দুই জায়গাতেই নিজেকে সর্বোচ্চ ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি।”
ওই ঘটনার পর তিনি চট্টগ্রামেই থেকে গেলে ওই ঘটনা হয়তো তার পিছু ছাড়ত না। নানাজনের কথায়, আলোচনায় বারবার ঘুরেফিরে আসত ওই প্রসঙ্গ। স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফেরাটা তুলনামূলকভাবে হতো আরেকটু কঠিন। ইমার্জিংয়ের ম্যাচ খেলতে সিলেটে চলে যাওয়াটা তাই বলা যায় তার জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছে।
সামনেই আছে জিম্বাবুয়ে সফর। বাংলাদেশ টেস্ট দলের হয়ে ঢাকা ছাড়বেন তিনি রোববার। লালখান বাজারের বিভীষিকা চাপা দেওয়াটা তখন আরেকটু সহজ হবে তার জন্য।