Published : 19 Jun 2025, 07:41 PM
শেরপুরের নকলা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে আহতের পর অস্ত্রোপচারে তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তার পরিবার।
বুধবার ছেলে মো. সাকিল মিয়ার কাটা পা নিয়ে উপজেলা সেনা ক্যাম্প, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং শেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিচার চেয়েছেন স্কুলছাত্রের বাবা মো. আমির হোসেন।
এর আগে ১৫ জুন উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের বারইকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান নকলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাশেম।
আহত মো. সাকিল মিয়া উপজেলার বারইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনায় পরদিন সাকিলের বাবা নকলা থানায় পার্শ্ববর্তী আদমপুর গ্রামের লালু বাদশা (৪৫), তার বড় ছেলে মো. অন্তিম (২২), ভাই মো. ইস্রাফিল (৪৯) এবং শ্বশুর দুলালের (৬০) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণির ছাত্র।
মামলার তিন দিনেও কোনও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার হতাশা থেকে সাকিলের বাবা ও স্বজনরা কাটা পা নিয়ে বিচারের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছিলেন।
সাকিলের বড় ভাই রাকিব হোসেন বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বারইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাকিলের সঙ্গে তার এক সহপাঠীর কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাট করা হলেও ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাকিলের ওই সহপাঠী লোকজন নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
“হামলাকারীরা দা দিয়ে সাকিলের হাত ও বাম পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে সাকিলের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।”
তিনি বলেন, অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় তাকে মোহাম্মদপুরের প্রাইম প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে সেখানে অস্ত্রোপচারে সাকিলের বাম পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলা হয় বলে জানান রাকিব হোসেন।
সাকিলের বড় বোন সখিনা বেগম বলেন, “আসামিরা সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে আমার ছোট ভাইয়ের পা বিচ্ছিন্ন করে দিল। পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে না। বারবার বলা হলেও তারা এখনো একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।”
এদিকে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সখিনা বেগম।
আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।