Published : 30 Sep 2025, 09:47 PM
যশোর সদর উপজেলার রাজারহাটে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে এক কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
মঙ্গলবার তাদের আদালতে তোলা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান যশোর ডিবির এসআই অলোক কুমার দে।
এর আগে সোমবার রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুল হক সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার মীরপুর উপজেলার আবুরী গ্রামের মল্লিকপাড়ার আয়ুব আলীর ছেলে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কাঠিয়া গ্রামের প্রয়াত জানকিনাথ সরকারের ছেলে গৌরাঙ্গ সরকার, ইটাগাছা গ্রামের ঘোষপাড়ার গনেশ মজুমদারের ছেলে বিকাশ মজুমদার বাবু এবং উত্তর পলাশপোল গ্রামের আনিচুর রহমানের ছেলে মাহিন রহমান শাওন।
এসআই অলোক কুমার বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ পরিচয়ে রাজারহাট থেকে সাতক্ষীরার জুয়েলারি ব্যবসায়ী সুধীর কুমার দাসের ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও যশোর থেকে চারজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা কয়েকজনের নাম জানান।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুলসহ চারজনকে আটক করা হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, স্বর্ণ ডাকাতির সঙ্গে পুলিশের আরও একজন সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এসআই অলোক বলেন, “গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিকাশ মজুমদার স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তার মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত অন্যরা জানতে পারেন, সুধীর কুমার দাস যশোরে সোনা আনতে যাচ্ছেন। যশোর থেকে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে তাকে আটক করে ১৯ ভরি সোনার গহনা লুট করা হয়।”
তিনি বলেন, বিকালে চারজনকে যশোরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম লস্কর সোহেল রানার আদালতে তোলা হলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুল হক ও শাওন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ডাকাতির ঘটনায় এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে উজ্জ্বল হোসেন ও নিশান হোসেন এবং যশোর থেকে মুসাব্বির হোসেন টুটুল ও রতন শেখকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল হোসেন ও রতন শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।