Published : 29 Dec 2025, 08:14 PM
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক-জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।
রোববার শিক্ষক নেটওয়ার্কের ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এক্তিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে দেওয়া এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় এ আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের ফেইসবুক পেইজে দেওয়া বিবৃতির মন্তব্যে আম্মার লেখেন, ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আম্মার বলেন, “আমি কমেন্ট করেছি, ডিলিট করি নাই। তারা (শিক্ষক নেটওয়ার্ক) আমার কাজকে যদি অপতৎপরতা হিসেবে দেখে, তাহলে আমিও তাদের বিবৃতি সন্দেহের চোখে দেখি।
“তারা আমাকে একটি আহ্বান জানিয়েছে, আমিও তাদের আহ্বান জানিয়েছি। তারা এটাকে স্বাধীনতা হিসেবে দেখলে আমিও আমার স্বাধীনতা প্রকাশ করছি।”
শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নানা ধরনের ‘মব’ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ডিনদের পদত্যাগ করানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানি তৎপরতা চলমান আছে। রাকসুর জিএস প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি না চেয়ে বরং ছয়জন ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন। কেবল তাই নয়, নিজেই যেন ‘প্রশাসন’ হয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় ডিনদের বিরুদ্ধে হুমকি দেন, এমনকি এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নিজে পদত্যাগপত্র লিখে এনে বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে ডিনদের খুঁজতে থাকেন, সম্ভবত লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে।
মোট ১২ জন ডিনের প্রত্যেকেই আওয়ামী শাসনামলে নির্বাচিত হলেও, বাকি ছয়জন হয়ত রাকসু জিএসের বিবেচনায় ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তীর্ণ’, ফলে তাদের পদত্যাগের দাবি ওঠেনি, তাদের নিয়ে অবমাননাকর কিছু বলাও হয়নি। এই উদ্ভূত অসম্মানজনক পরিস্থিতিতে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত ছয়জন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সকল সীমা ছাড়িয়ে বারবার ঘোষণা করতে থাকেন, লীগপন্থি শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে ‘কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে’।
নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যা করছেন, তা রাকসুর এখতিয়ার বহির্ভূত এবং তাদের আচরণও ‘আগ্রাসী’ ও ‘সন্ত্রাসীদের’ মতো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা এর জবাবদিহি প্রত্যাশা করি। কেননা, রাকসুর নেতাদের এরকম আচরণ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেনি, এটা সরাসরি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপরে হামলা। এর ‘স্পাইরাল ইফেক্ট’ পড়েছে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
এসব বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য সৌভিক রেজার সঙ্গে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষক নেটওয়ার্ক ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে। যদি ভিন্ন মতাদর্শের হওয়ার কারণে চাকরি চলে যেত বা পদচ্যুত করানো হত, তাহলে তো শিক্ষক নেটওয়ার্কের অনেকেরই আওয়ামী লীগ আমলে চাকরি চলে যেত।
“৭৩ এর অধ্যাদেশ আমাদেরকে একটা রক্ষাকবজ দিয়েছে, যে কারণে আমরা শিক্ষকরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার পরেও আমাদের চাকরি চলে যায়নি।”
তিনি বলেন, “ভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষক কর্মকর্তাদের গাছে বেঁধে রাখা, চাকরিচ্যুত কিংবা জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো একজন শিক্ষার্থীর এখতিয়ারের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও এ ক্ষমতা রাখেন না। তবে শিক্ষকরা কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে নন।
“আইনানুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, তবে ‘মব’ তৈরি করে নয়। কেউ যদি সরাসরি হামলা বা দালালি করে থাকে তাহলে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার (রাকসু জিএস) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি এভাবে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন না বলে মনে করেন সৌভিক রেজা।