Published : 27 Jul 2026, 07:53 PM
গোপালগঞ্জে সদরে শ্বশুরবাড়ির পাশের পুকুর থেকে এক এসআইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার উপজেলার পাইককান্দি পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।
নিহত এসআই বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল (৩৮) এপিবিএন খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে কর্মরত ছিলেন। তিনি উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে।
আটকরা হলেন- নোবেলের স্ত্রী ফাতেমা কানিজ এবং শ্বশুর কবিরুল ইসলাম ওরফে ঝুনু শেখ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে যান নোবেল। কাজ শেষে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। তিন দিন পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুরে নোবেলের লাশ ভসতে দেখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নোবেলের বড় ভাই বি এম আশিকুজ্জামান বলেন, “আমার ভাইয়ের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। তাই ভাই ছুটিতে এলে বাড়িতে না এসে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন।

“এবার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর টাকা নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছি।”
নোবেলের ছোট বোন নাদিরা সুলতানা বলেন, “ভাইকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিত না ভাবি। এর আগে ভাবি আমার ভাইকে দুইবার খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। ভাবি ও তার বাড়ির লোকজন ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলেছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।