Published : 26 Jul 2025, 07:22 PM
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি অনুমোদন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হকের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
ডিপিপি অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ার প্রতিবাদে শনিবার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব কর্মসূচি বয়কট করে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর সামনে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, “আজ প্রাণের প্রতিষ্ঠান রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি আমাদের জন্য আনন্দঘন হতে পারত। অথচ আমরা আজ রাজপথে অবস্থান নিয়েছি।
“রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদনে সরকারের উদাসীনতা আমাদের আজ এখানে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করব না। আমরা দীর্ঘ নয় বছর ধরে ধুঁকছি, আর নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে এমন টালবাহানা গ্রহণযোগ্য নয়।”
সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াতসিংহ শুভ বলেন, “এই ডিপিপি এ পর্যন্ত সাতবার সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যখন যে তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে, আমরা সরবরাহ করেছি। এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১০০ একর ভূমি ব্যবহারে অনাপত্তিপত্র ডিপিপির সঙ্গে সরবরাহ করা হয়েছে। এতকিছুর পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপির অনুমোদন না হওয়ায় নানাবিধ শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আমরা মনে করছি, এর পিছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত আছে।”
সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল মাসুদ বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস নির্মাণে ডিপিপির অনুমোদনের দাবিতে আমাদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে, এটি হতাশার। এ বিষয়ে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজ বলেন, “উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের ডিপিপি একনেকে অনুমোদন পায়নি। একনেক সভার সবাই ডিপিপি অনুমোদনে সম্মত হলেও তিনি বলেছিলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প অঞ্চল পরিদর্শন করে মতামত জানাবেন। সম্প্রতি তিনি সরেজমিনে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। কিন্তু একের পর এক একনেক সভা পেরিয়ে গেলেও এই প্রকল্পের ডিপিপি এজেন্ডাভুক্ত হয়নি। এজন্য এই উপদেষ্টাই দায়ী। আমরা ডিপিপির অনুমোদন চাই এবং এই উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।”
মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বলেন, “আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা ভবনে চলছে, এটি কেবল আমাদের জন্য নয়, সব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জার। আমরা এর আগেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য আন্দোলন করেছি। সরকারের আশ্বাসে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়েছি। তবে এবার বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে আমরা ফিরছি না। এ কর্মসূচি কঠোর থেকে আরো কঠোরতর হবে।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, “এই সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বার বার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত ডিপিপি অনুমোদন করছে না। আর আশ্বাস নয়, চূড়ান্ত ফয়সালা নিয়ে আমরা রাজপথ ছাড়ব।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৫১৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। ২৭ জুলাইয়ের একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন না দেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি শুরু করা হবে।”