দুদিনের মাথায় খুলনায় ফের গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
খুলনায় অগাস্টের প্রথম পাঁচ দিনেই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটল।
খুলনা নগরীতে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার দুদিনের মাথায় ফের একই কায়দায় আরেকজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর সঙ্গীতা সিনেমা হলের নিচে শেখ শাহাদাত হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার খবর দিয়েছে পুলিশ।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সঙ্গীতা সিনেমা হলের বিপরীত দিক থেকে কয়েক যুবক শাহাদাতকে ধাওয়া করে। জীবন বাঁচাতে তিনি একটি টায়ারের দোকানে আশ্রয় নেন। তবে সেখানে গিয়েও রক্ষা পাননি।
“দুর্বৃত্তরা দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তিনটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। গুলির পাশাপাশি তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।”
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে ওসি জানান।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার মো. আজম খান বলেন, “শাহাদাত একসময় ‘জনযুদ্ধ’ নামের একটি চরমপন্থি দলের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি।”
এর আগে ৩ অগাস্ট রাতে মহেশ্বরপাশায় উত্তর বণিকপাড়া এলাকায় আলামিন হাওলাদার নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।
তার আগে ১ অগাস্ট রাতে নগরীর সবুজবাগ এলাকায় বাড়িতে ঢুকে মনোয়ার হোসেন টগর নামের ২৭ বছরের এক যুবককে হত্যা করা হয়। পেশায় একজন রঙের ঠিকাদার ছিলেন তিনি।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর খুলনায় প্রায় মাসেই এমন হত্যার ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১ জন খুন হয়েছেন নগরীতে। এর মধ্যে অগাস্টের প্রথম পাঁচ দিনেই তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটল।
গত ২২ জুলাই নগরীর নিরালা কাঁচাবাজারের পাশের এলাকায় ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী জাকির হোসেন (৫০) নিহত হন। ওই এলাকায় তার একটি দোকান এবং মশার কয়েল কোম্পানির ডিলারশিপ ছিল।
তার আগে ১১ জুলাই পশ্চিম মহেশ্বরপাশা এলাকায় বাসার সামনে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করা হয় মাহবুবুর রহমান মোল্লা নামে আরেক যুবককে। ৩৮ বছরের এ যুবক দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।
