Published : 19 Jun 2026, 04:41 PM
পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষকে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন শেষে ‘অবসর রেস্ট হাউসে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি খুব পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তবে ইনশাআল্লাহ এই অঞ্চলের মানুষকে আমরা নদী ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো। সেই কাজটুকু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা টেকনিক্যাল টিম ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এখানে একত্রিত হয়েছি।”
উজানের ঢল ও নদী ভাঙনের তীব্রতা উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “উজানের গজলডোবা ব্যারাজের গেটগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ খুলে দেওয়ায় পানির তীব্র স্রোত আসছে। এই খাড়া স্রোতের কারণে একদিকে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিশাল আকারে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
“পানি এত ওভার ফ্লো হচ্ছে যে, এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ কষ্ট লাঘবে দ্রুত টেকসই বাঁধ ও ড্রেজিং করা হবে।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে এ্যানি বলেন, “তিস্তাপাড়ের সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে এ মহাপরিকল্পনা অতিব প্রয়োজন। এটি শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে কাজটা শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তিস্তা শুধু লালমনিরহাট বা রংপুরের দুঃখ নয়, এটি সারা বাংলাদেশের দুঃখ। এই মহাপরিকল্পনার কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে হয়তো ২ থেকে ৪ বছর বা ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগবে।
“কিন্তু এর যে সুফল আসবে, তাতে সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে। পাঁচটি জেলার দুঃখ তখন উৎপাদনে ও আনন্দে পরিণত হবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী এ্যানি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কয়েটে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সেমিনার হবে।
“পরবর্তীতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের আদলেই এই মেগা প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেকের সভায় উত্থাপন করা হবে।”
মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল উপস্থিত ছিলেন।