Published : 16 Apr 2026, 01:44 PM
কুমিল্লা জেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হাম আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই এর আগে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা নেয়নি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের মত কুমিল্লায় ব্যাপক পরিসরে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় জেলায় সাত লাখেরও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির নিজ কার্যালয়ে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকাদান সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার হাম পরিস্থিতির সবশেষ চিত্র তুলে ধরেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ৫ বছরের কম।”
বশির আহমেদ বলেন, “পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এর মধ্যে শূন্য থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩৩ শতাংশ।

“এছাড়া ৯ থেকে ১১ মাস মাস বয়সী ১৭ শতাংশ, ১ থেকে ২ বছর বয়সী ১৬ শতাংশ এবং ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ১৩ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।”
এছাড়াও ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯ শতাংশ, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩ শতাংশ এবং ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৮ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত রোগীদের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ রোগী কোনো টিকা গ্রহণ করেনি।
এ তথ্য জানিয়ে হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, “চলতি বছরের শুরু থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত হসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২৭ জনের মধ্যে ১৭২ হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা নেয়নি।”
“তবে এখন যারা এখন টিকা নেবেন তাদেরকে অবশ্যই আক্রান্ত হওবার ২৮ দিন পর টিকা নিতে হবে, এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এজন্য যেকোন ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

এদিকে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের মত কুমিল্লায়ও হাম রুবেলার টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন বশির আহমেদ।
তিনি বলেন, “এই ক্যাম্পেইনে ৭ লাখেরও বেশি শিশুকে লক্ষ্যমাত্রায় ধরা হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই অঞ্চলের শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখানে প্রাণহানি খুবই কম।”
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লায় হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৬৪৮ জন। এর মধ্যে হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩২৫ জন এবং চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৩৫ জন। বর্তমানে বেশির ভাগ হাম আক্রান্ত রোগী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।