Published : 30 Jun 2026, 04:00 PM
নতুন অর্থবছরে প্রথমবারের মতো এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে।
তার ভাষ্যে, “এটাকে আমাদের একটু ঘুছিয়ে নিতে হবে; নিয়ে আমরা জাস্টিফাই করব কাকে দেওয়া যায় এবং সেইভাবে আমরা আগামী বাজেটে অ্যালোকেশন করা আছে টাকা; সেখান থেকে আমরা (এমপিও) দেব। বাট ইট হ্যাজ টু বি ইন অ্যা সিস্টেম।”
মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মিলন।
তিনি বলেন, “এখন দেখবেন প্রেস ক্লাবে গেলেই এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা এমপিওর জন্য অনশন করছেন। হোয়াট ইজ দিস? কেন করবে? একটি জিনিস সিস্টেমে আছে, সিস্টেম অনুযায়ী গাড়ি চলতে থাকবে।
“এবতেদায়ী মাদ্রাসার কারা (এমপিও) পাবে, এটার একটা নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালায় যে পড়বে, সেই পাবে; তাই না? ভেরি সিম্পল! রুলস অব বিজনেস থাকবে। কিন্তু রুলস অব বিজনেস একেকবার একেকরকমভাবে চেঞ্জ করা শুরু করল।”
ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেই আলিয়া মাদ্রাসা পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন হয় এবতেদায়ী মাদ্রাসায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর চার দশক কেটে গেলেও শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা তিন হাজার টাকা করে অনুদান পেয়ে থাকেন।
এর বাইরে দেশে আরও ৫ হাজার ৯৩২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলো সরকারি কোনো অনুদান পায় না।
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রথমে এমপিওভুক্ত করে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
ওই বছরের ২৫ জুন এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। ওই নীতিমালা অনুযায়ী অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করতে গতবছরের ৮ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমাদের সময় ছিল ৩৬ শতক জায়গার উপরে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা হবে। শিক্ষকগুলো এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগ হবে। বাহ্, কোনো কিছু বলাই নেই, লাস্ট গভর্নমেন্ট পট করে বলে বসল ২৩ শতক জায়গার উপরে যেকোনো লোক এবতেদায়ী মাদ্রাসা করতে পারবে।
“এখন এবতেদায়ী মাদ্রাসার এই যে নম্বর ব্যানবেইজ থেকে দিয়ে দিচ্ছে, এটার কোন ইন্সপেকশন নাই, কোনোরকম ডকুমেন্টেশন নাই। এখন আল্লাহ আমরা সেই অথৈ সমুদ্রে ভাসছি এবং দেখছি যে মাদ্রাসারা আন্দোলন করছে।”

আগের সরকারগুলো শিক্ষাখাতে এলোমেলোভাবে কাজ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এগুলো যদি বলতে যাই, সারাদিন বলতে পারব। বাট বলে তো লাভ নাই। রেসপন্সিবিলিটি কার? আমাদের, নাকি? আমাদেরকে এটা অ্যাড্রেস করতেই হবে।”
মাদ্রাসা শিক্ষাকে উন্নত করতে কী কী করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তা করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
মাদ্রাসা শিক্ষকরা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন জানিয়ে মন্ত্রী মিলন বলেন, “উনাদের বেতন নাই, এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোতে আমরা মিডডে মিল দিচ্ছি না, বই দিচ্ছি। সেই সাথে বললেন মাদ্রাসাগুলোতে ফান্ডের অভাব রয়েছে।
“উই লার্ন ইউর প্রবলেম এবং এই প্রবলেম আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে।”
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম।
যা বললেন আন্দোলনের নেতা
গত বছরের ৩ নভেম্বর শর্তসাপেক্ষে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস। তবে এ মাদ্রাসাগুলোকে এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার দাবিতে সম্প্রতি লাগাতার অবস্থান ও অনশন করেছেন শিক্ষকরা। তারা গত ২১ মে থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে গত ৭ জুন থেকে তারা অনশন কর্মসূচি পালন করেন। পরে গত ১৮ জুন তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’ নামে যে ব্যানারে এসব কর্মসূচি চলছে, তার সদস্য সচিব আব্দুল হান্নান হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি আসন্ন অর্থবছর থেকে আমাদের এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দেওয়ায় আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি।
“যে ১ হাজার ৩২৭টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্ত হবে বলে মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মাদ্রাসাগুলো এমপিভুক্ত করার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের পাঠাতে বলেছেন তিনি।”