Published : 26 Sep 2022, 11:27 AM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে থরে থরে ফুটেছে কাশফুল। শুভ্রতা আর স্নিগ্ধতায় মোড়া কাশফুলের সৌন্দর্য জানান দিচ্ছে এখন ভরা শরৎকাল।
শরৎএর নীলচে আকাশে সাদা মেঘের খুনসুটি আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য মন কাড়বে যে কারো। প্রতিবছর শরতের এই সময়টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিণত হয় মিলনমেলায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক কিংবা প্রান্তিক ফটক দিয়ে ঢুকে সোজা আল বেরুনী হলের মাঠে দেখা মিলবে কাশফুলের। অন্য সময় উঁচু-নিচু এই মাঠে মানুষের তেমন পদচারণা না থাকলেও শরতের বিকালগুলো এ মাঠ থাকে কোলাহলপূর্ণ।
রোববার সেখানে দেখা গেলো, দর্শনার্থীদের অনেকে মুক্ত মনে সাদা কাশফুল ছুঁয়ে দেখছেন; অনেকে আবার সুন্দর সেই অনুভূতিগুলো ক্যামেরাবন্দি করছেন।

শহীদ সালাম-বরকত হলের পাশে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইজারল্যান্ড ও শান্তিনিকেতন এলাকায় গেলেও চোখ জুড়াবে কাশফুলের স্নিগ্ধতায়।
প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূর দুরান্ত থেকে লোকজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসছেন কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে। তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বোটানিক্যাল গার্ডেন পার হয়ে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারে। এখানে লোকজনের পদচারণা কম থাকে; ফলে কাশবনে ঘুরে বেড়ানো যাবে একেবারেই নিরিবিলিতে।

এ রকম নির্জন এলাকায় শেষ বিকালের রোদে শুভ্র কাশফুল দেখার আনন্দই অন্যরকম। সঙ্গে ঘুঘুর ডাক, ডাহুকছানার ছোটাছুটি, রঙিন ফড়িংয়ের ওড়াউড়ি দর্শনার্থীদের আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে।
কাশফুল দেখতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামান্তা ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিটি মানুষের উচিৎ এরকম একটি পরিবেশে আসা। এতে মানসিক বিকাশ ঘটে, সুন্দর চিন্তা করা যায়। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে বাইরের কৃত্রিম সৌন্দর্য আসলে কিছুই না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তাহমিনা শর্মী বলেন, “শরতের বিকালটা সত্যিই অন্যরকম। এরকম ঝলমলে রোদ, ফুরফুরে নির্মল হাওয়া আর আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা দেখতে কার না ভালো লাগে। এরকম বিস্তীর্ণ আকাশ, খোলা মাঠ, সূর্যাস্ত আর কাশবন সব মিলিয়ে চমৎকার একটি দৃশ্য।”

সাভার থেকে মেয়েকে নিয়ে কাশবন দেখতে এসেছেন এলিজা সুলতানা। তিনি বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত। এলিজা বলেন, “একদিকে মাঠে কাশফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে অন্যদিকে আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে, এগুলো বুঝতে গেলে বা শিখতে গেলে তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান শিকদার বলেন, “কাশফুল মূলত এক প্রকার বন্য ঘাস। ভারতীয় উপমহাদেশে এই কাশফুলের আবির্ভাব। তবে এর আদি নিবাস রোমানিয়ায়।
এই বন্য ঘাসের গোড়া সহজে পঁচে না; ফলে প্রতিকূল পরিবেশে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। কিন্তু অনুকূল পরিবেশে নতুন করে জন্মায়।”

তবে কাশফুল ছিড়ে এর সৌন্দর্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে দেখা গেছে অনেককেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-নিবন্ধক (এস্টেট) আবদুর রহমান বলেন, “যেসব জায়গায় কাশফুল দেখতে এসে কোলাহল হচ্ছে, লোকজন ফুল ছিড়ে সৌন্দর্য নষ্ট করছে সেখানে আমরা বোর্ড টানিয়ে দেব।”