Published : 12 Jan 2026, 11:04 AM
শরীয়তপুর জেলায় এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির ২০ জন ডিলার থাকলেও কারো কাছেই সিলিন্ডার নেই। ফলে বাসা-বাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশের বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিলারদের কারো কারো কাছে কিছু টোটাল কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। তাও দাম চড়া। ১৫০০ টাকার নিচে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে না।
বিপদে পড়ে অনেক বাসাবাড়ির লোকজন বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়েই নিচ্ছেন গ্যাস সিলিন্ডার। তবে সঙ্গে একটি রেগুলেটর নিতে হচ্ছে।
বর্তমানে টোটাল গ্যাসের রেগুলেটের সাইজ ২০। যদিও বাসাবাড়ির রেগুলেটর রয়েছে ২২ সাইজের। এ কারণে গ্যাসের নুতন রেগুলেটর কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
শরীয়তপুর শহর অঞ্চলে যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাদের মধ্যে যারা দোতলা থেকে বহুতল ভবনে থাকেন তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যা পড়েছেন। এসব পরিবার ইচ্ছে করলেই লাকড়ির চুলায় রান্নার কাজ করতে পারছেন না। তাছাড়া এসব ভবনের বাসাবাড়িতে মাটির চুলা নেই। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি হচ্ছে এসব বাসা-বাড়িতে।
ডিলার সেলিম খান ও বেলায়েত হোসেনের ভাষ্য, তাদের পণ্য মোংলা বন্দর থেকে সরবরাহ করা হয়। ১ জানুয়ারি থেকে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না কোম্পানিগুলো। ১৫ ডিসেম্বর থেকে তারা চাহিদার অর্ধেক সিলিন্ডার পাচ্ছেন।
ডিলাররা গাড়ি নিয়ে ছয়-সাত দিন ধরে কোম্পানির প্ল্যান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার আনছেন। তাও চাহিদার তুললনায় সরবরাহ একেবারে অপ্রতুল। এক হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের বিপরীতে হয়ত ৪০০টি পাওয়া যাচ্ছে। এতে খরচ বেশি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গ্যাসের ভোক্তা শহরের বাসিন্দা শেখ কামাল বলেন, “শরীয়তপুরে গ্যাসের যে সংকট, তাতে দু-একদিন পরে আমাদের বাসাবাড়িতে কোনো গ্যাস থাকবে না। আমাদের বাসায় গ্যাস না থাকলে কিভাবে রান্না করব? কিভাবে খাব? বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।”
একই কথা বলেন শহরের বাসিন্দা দোলোয়ার বেপারী ও সেলিনা আকতার। তারা বলছিলেন, খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে মানুষকে খুব বিপদে পড়তে হবে।
শরীয়তপুর জেলা গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট বলেন,
রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ হাওলাদার বলেন, “গ্যাসের উপর আমাদের নির্ভর করে রান্না চালাতে হয়। কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া আমাদের গ্যাস কিনতে হয় ২২০০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় আমাদের লাভ তো হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
শরীয়তপুরের ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “এটা জাতীয় সমস্য্। জাতীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত হয় তা আমি জানি না। জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা যেভাবে নির্দেশ দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করি।”
এ ব্যাপারে জানতে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।