২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সহকর্মীর মৃত্যু: শ্রমিক বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, আটক ২৩

গাজীপুরের শ্রীপুরে ছুটি চেয়ে না পেয়ে এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হয়ে এক শ্রমিক ছাদ থেকে লাফিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন বলে অভিযোগ সহকর্মীদের।

সহকর্মীর মৃত্যু: শ্রমিক বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, আটক ২৩
গাজীপুরের শ্রীপুরে সহকর্মীর মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের একটি এপিসি কার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jun 2025, 08:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:07 PM

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সহকর্মী মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও এপিসি কার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নয়নপুর নতুন বাজার এলাকার ‘জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানার এসব শ্রমিকদের আটক করা হয় বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম।

আটকদের শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে; তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে তাৎক্ষণিক তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার ওই কারখানার এক শ্রমিক ছুটি চেয়ে না পেয়ে এবং কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করার তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

শ্রীপুর থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ১৯ জনকে ইতিমধ্যে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদেরও থানায় হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশের দেওয়া অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জিন্নাত নিটওয়্যার কারখানার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান শ্রমিক মো. জাকির হোসেন (৩০)। তিনি নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বাদেচিরাম গ্রামের মুক্তার উদ্দিনের ছেলে।

জাকিরের সহকর্মীদের দাবি, জাকির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি না দিয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণে অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকালে কারখানা ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের এপিসি গাড়ি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্র ভঙ্গ করে দেয়। 

এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১১ পুলিশ সদস্য ও অর্ধশত শ্রমিক আহত হন।

পুলিশ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সেখানে অবস্থান নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে বলে দাবি কারখানা শ্রমিকদের।

তবে পুলিশের দাবি, শ্রমিকরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সেখানে কয়েকটি কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার এজিএম জুবায়ের বাসার বলেন, “ওই শ্রমিক ছুটি চাইতে যাননি। তিনি পারিবারিক কলহের কারণে হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকে তিনি লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।”

শিল্প পুলিশের গাজীপুরের শ্রীপুর সাবজোনের ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, শ্রমিকরা একটি এপিসি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।