Published : 14 Mar 2026, 07:16 PM
দশ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমান বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নূরনবী সরকার। কথা ছিল আগামী কোরবানির ঈদে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হল না।
শুক্রবার ভোরে মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপে একটি আইল্যান্ডে নির্মাণকাজের সাইটের গেস্ট হাউসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হন; যাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী নূরনবী আছেন।
নিহত নূরনবী উপজেলার বাদেগাংনই গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল।
ছেলের মৃত্যুর খবর আসার পর মৃতদেহ দেশে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের। একমাত্র ছেলের নিথর দেহটি শেষবারের মতো দেখতে পাবেন কি-না, তা নিয়ে কাটছে না দুশ্চিন্তা।
শনিবার সকালে নূরনবীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা ভিড় করে আছেন শোকাতুর মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে। তিন বোনের একমাত্র ভাই নূরনবী ছিলেন পরিবারের আশার প্রদীপ।
আব্দুস সামাদ বারবার বিলাপ করে বলছেন, অন্তত ছেলের মুখটা দেখার ব্যবস্থা করেন। সরকার যেন তার ছেলের লাশটা দ্রুত দেশে পাঠায়।
স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন মালদ্বীপে সেহরির রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে নূরনবীসহ পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও দুইজন।
অন্য নিহতরা হলেন- তাজ উদ্দিন ইসলাম, সদর আলী, রবিন মোল্লা এবং সফিকুল ইসলাম। চিকিৎসাধীন আছেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও মৃতদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া কতদূর, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের।
নূরনবীর ভাগ্নে মাহবুব বলেন, “মামা ১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি। এবার আসার সব কথা পাকা ছিল। এখন লাশটা কবে আসবে, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।”
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে মৃতদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন-
মালদ্বীপে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত তাজ উদ্দিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর