মাদারীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘর থেকে স্বামীর লাশ উদ্ধার
প্রথম স্ত্রী চম্পা বাড়ৈ বলেন, বার বার বলছিলেন, ৫০ লাখ টাকা ম্যানেজ করে নিয়ে আসতে। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলবে।
মাদারীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘর থেকে স্বামীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ৫০ লাখ টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মাদারীপুর পৌরসভার কুকরাইল এলাকার কাতার প্রবাসী রাশেদ মাতুব্বরের তিনতলা ভবনের নিচতলা থেকে শনিবার বিকালে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান।
নিহত সুব্রত পাল পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার চন্দ্রপাড়া এলাকার কৃষ্ণ কান্ত পালের ছেলে।
এ ঘটনায় সুব্রতর দ্বিতীয় স্ত্রী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশি গ্রামের জগবন্ধু বাড়ৈর মেয়ে মিতালী বাড়ৈ ও তার মা মিনা বাড়ৈকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা বলেন, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে সুব্রতর সঙ্গে মিতালীর পরিচয় হয় এবং তারা বিয়ে করেন। গত বৃহস্পতিবার সুব্রতকে মোবাইলে কল করে মাদারীপুরে ডেকে আনেন মিতালী। পরে দুদিন শহরের কুকরাইল এলাকার একটি বাসায় সুব্রতকে আটকে রেখে করা হয় মানসিক নির্যাতন। আগের বিয়ে গোপন রেখে সুব্রত দ্বিতীয় বিয়ে করায় পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। এরপর শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে একটি রুমের দরজা ভেঙে সুব্রতর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে।
স্বজনদের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় মেরে ফেলা হয়েছে সুব্রতকে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সুব্রতর প্রথম স্ত্রী চম্পা বাড়ৈ বলেন, শুক্রবার রাতে কয়েক বার স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। বার বার বলছিলেন, ৫০ লাখ টাকা ম্যানেজ করে নিয়ে আসতে। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলবে। যতবার কথা হয়েছে, ততবারই ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড কথা হয়। এরপর মোবাইল কেড়ে নেয় মিতালী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন।
“আমার স্বামীকে পরিকল্পনা করে মেরে ফেলা হয়েছে, এই ঘটনার বিচার চাই।”
ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে দরজা ভেঙে নিহতের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
