Published : 08 Nov 2025, 02:12 PM
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ডোবা থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ- শ্বশুর বাড়ির সামনে থেকে তাকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই বাড়ির লোকজন হত্যায় জড়িত থাকতে পারে।
তবে, পুলিশের ভাষ্য- যুবকের নামে একাধিক মামলা আছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা তাকে হত্যা করেছে।
শুক্রবার রাতে চৌমুহনী পৌরসভার পার্শ্ববর্তী শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সারেং বাড়ি সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ থানার ওসি লিটন দেওয়ান।
নিহত আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কান কাটা কাদিরা (৪২) চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুরের মো. গোফরানের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই মো. হারুনুর রশিদের অভিযোগ, শ্যালিকার বিয়ে নিয়ে কিছুদিন আগে কাদেরের সঙ্গে তার শ্যালকের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর শুক্রবার রাতে শ্বশুর বাড়ির সামনে থেকে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী কাদেরকে তুলে দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

তার দাবি, এ সময় ওই বাড়ির সামনে দোকানে বসা লোকজন সন্ত্রাসীদের দেখেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাবাসাদের মাধ্যমে হত্যাকারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে থানায় চারটি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তার সঙ্গে পরিবারের কারো ভালো সস্পর্ক ছিল না।
“তার বাবা কয়েক বছর আগে মারা যান। মা নানার বাড়িতে থাকেন। সাত মাস আগে বিয়ে করে কাদের কিছুদিন শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। পরে তাদের সাথেও সম্পর্কের অবনতি হলে বাইরে বাইরে থাকতেন।”
ওসি আরও বলেন, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণা।”
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি।