Published : 12 Jul 2024, 06:57 PM
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার এবং চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারে পাশে ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।
এ সময় নির্বাহী বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটার আদেশ জারি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে বিকাল সোয়া ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল ধরে স্টেশন বাজারে রেললাইনে অবস্থান নেন তারা। এতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল এবং অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি।
“এ ছাড়া সব ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখতে হবে এবং তা দ্রুত নির্বাহী বিভাগের বৈঠকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। এক রিট আবেদনের রায়ে গত ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। এক রিট আবেদনের রায়ে গত ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
এরপর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা। প্রথম কয়েক দিন মিছিল, মানববন্ধনের মত কর্মসূচি থাকলেও এ সপ্তাহের শুরু থেকে শুরু হয় তাদের অবরোধ কর্মসূচি, যার নাম তারা দিয়েছে ‘বাংলা ব্লকেড’।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা শুরুতে চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করলেও এখন তারা মাঠে রয়েছে এক দফা নিয়ে।
তাদের দাবি হল- সব গ্রেডে সব ধরনের ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে৷
ওই ‘ন্যূনতম পর্যায়’ বলতে প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ অনগ্রসর লোকদের জন্য ৫ শতাংশ পর্যন্ত কোটা ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে করছে তারা।
আন্দোলনকারীরা গত রবি ও সোমবার বিকালে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। এরপর বুধবার সকাল-সন্ধ্যা সারা দেশে তাদের একই কর্মসূচি চলে।
এই আন্দোলনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বুধবার কোটা নিয়ে স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেয়।
কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, কোটা নিয়ে এখন কোনো কথা বলা যাবে না। হাই কোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আপিল বিভাগ আবার বিষয়টি শুনবে।
বৃহস্পতিবার সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে দুটি গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের মূল বা বাস্তবায়নের অংশ প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট।
সেখানে বলা হয়েছে, এ রায় পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পাশাপাশি আগে থাকা অন্যান্য কোটাও বহাল করতে হবে। তবে সরকার চাইলে বিভিন্ন কোটার হার কমাতে, বাড়াতে বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে।
আন্দোলনকারী ও সরকারের তরফে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের যে কথা বলা হচ্ছে, এই রায়ের মধ্য দিয়ে তার পথ প্রশস্ত হল।
আরও পড়ুন:
কোটা: কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
স্থিতাবস্থা জারির পরও রাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ফের মহাসড়ক অবরোধ রাবি শিক্ষার্থীদের
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ফের মহাসড়ক অবরোধ রাবি শিক্ষার্থীদের
কোটার বিরোধিতা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ
কোটা: চট্টগ্রাম-কুমিল্লায় হামলার প্রতিবাদে রাবি শিক্ষার্থীদের রেল