Published : 16 Oct 2025, 09:22 PM
সিলেটের আদালত প্রাঙ্গণে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছেন পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথরে’ লুটপাট মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা আলফু মিয়া এবং তার ছেলে। ভেঙে ফেলেছেন এক সাংবাদিকের মোবাইল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কোর্ট পুলিশের ওসি মো. জমশেদ আলী।
আসামি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু মিয়া তেলিখাল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
তার বিরুদ্ধে ‘সাদাপাথর’ লুটের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর করা মামলা, হত্যাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলারও আসামি বলে গ্রেপ্তারের পর জানিয়েছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ।
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দুদকের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আলফু মিয়ার রিমান্ড শুনানি ছিল। খবর সংগ্রহ করতে সেখানে যান স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক, যার মধ্যে ছিলেন ইমজা নিউজের সাংবাদিক নয়ন সরকার এবং ক্যামেরাপার্সন বিশাল দে বৃত্ত।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রিমান্ড শুনানি শেষে কোর্ট থেকে নিচে নিয়ে আসার সময় আলফু মিয়া পুলিশের সামনেই সাংবাদিক নয়নের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। একইসঙ্গে তার ছেলে বৃত্তের হাতে থাকা মোবাইল-ক্যামেরা কেড়ে নেন। পরে সহকর্মীরা নয়নকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
সাংবাদিক নয়ন সরকারের অভিযোগ, “আলফু চেয়ারম্যান পুলিশের সঙ্গে থাকা অবস্থায় আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি আমার মোবাইল নিয়ে যান। পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে ছিল, তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করি। তখন পুলিশ আমাকে সরিয়ে দেয়, আমার ক্যামেরা পারসনের মোবাইলটিও নিয়ে যাওয়া হয়ে। তারপরও হামলা করা হয়। পুলিশ সদস্যরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।’’
ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-ইমজা সিলেটের সভাপতি আশরাফুল কবির বলেন, “আমরা আশ্চর্য হয়েছি। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন আসামি তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে হামলা করে মোবাইল-ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়; এ দায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
কোর্ট পুলিশের ওসি মো. জমশেদ আলী বলেন, “দুই মামলায় আসামি আলফু চেয়ারম্যানের রিমান্ডের শুনানি ছিল। সে জন্য আমরা যথাযথ নিয়মে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে তাকে এজলাসে হাজির করি। শুনানি শেষে তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
“তাকে নিয়ে আসার পথে গেইটের সামনে কিছু মিডিয়ার লোক তার খুব কাছাকাছি হয়ে যান। কাছাকাছি হওয়াতে তার একটি হাত খোলা ছিল, এই সুযোগে সে একজন মিডিয়াকর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে।’’
হত্যাসহ ১৭টির মামলার আসামিকে এভাবে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের নিয়ম অনুয়ায়ী করেছি। হাইকোর্টের নিদের্শ ছাড়া আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরানোর নিয়ম নেই। আমাদের উপর অনেক কাজ। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইমজার নিন্দা
এদিকে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের-ইমজা সভাপতি আশরাফুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমদ মিঠু।
এক প্রতিবাদ লিপিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।