Published : 20 Jun 2025, 05:51 PM
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রায় ১০ মাস পরে হওয়া এক হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ এর বিচারক সোয়েবুর রহমান এ আদেশ প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজীরহাট থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ।
এর আগে বিকালে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকার নিজ বাসা থেকে মাহমুদুল হককে গ্রেপ্তার করে হাজিরহাট থানার পুলিশ।
ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মাহমুদুল হক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ছমেস উদ্দিন (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৫৪ নম্বর আসামি, তাই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন এবং ২ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মারা যাওয়া ছমেস উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগে গত ৩ জুন মহানগর হাজির হাট থানায় মামলা করা হয়।
মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ অগাস্ট তৎকালীন পুলিশ, প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রাধাকৃষ্ণপুর এলাকার মুদি দোকানি ছমেস উদ্দিনকে তার দোকানে এসে হুমকি দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছমেস উদ্দিনকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ ও আসামিরা তাকে রেখে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ছমেস উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আমেনা বেগম বাদী হয়ে হাজীরহাট থানায় মামলা করেন। এই মামলায় বেরোবির শিক্ষক মাহমুদুল হককে ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়। তাকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এদিকে মারা যাওয়ার ১০ মাস পর করা হত্যা মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
একই মামলায় গত ১৬ জুন দেলওয়ার হোসেন নামে আরেক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি রাধাকৃষ্ণপুর ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ।
এদিকে বেরোবি বৃহস্পতিবার শিক্ষক মাহমুদুল হকের গ্রেপ্তারের পর তার ফেইসবুক আইডিতে মামলাটিকে ‘পরিকল্পিতভাবে সাজানো মিথ্যা মামলা’ দাবি করে পোস্ট করেন তার সহধর্মিণী।
পোস্টে বলা হয়, ‘আমি মো. মাহমুদুল হকের সহধর্মিণী লিখছি, আমার হাজব্যান্ড মো. মাহমুদুল হক সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর; আজ বেলা আনুমানিক সাড়ে ৩টায় আমার রংপুরের ধাপ এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা-পুলিশ আমার হাজব্যান্ডকে আটক করে সরাসরি আদালতে নিয়ে যায়। কোনো এক হত্যা মামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমার হাজব্যান্ড এ রকম কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি পুরোপুরিভাবে নির্দোষ। এটি একটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো মিথ্যা মামলা। আমি আমার হাজব্যান্ডের স্নেহভাজন শিক্ষার্থী, সম্মানিত সহকর্মী, সাংবাদিকতা পেশার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী সবার পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করছি।”