Published : 01 Apr 2023, 05:47 PM
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে হত্যা করে লাশ ‘বস্তায় ভরে যমুনার পানিতে ফেলে’ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পিবিআই। তবে সেই লাশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই নারীর প্রথম স্বামী ও তার বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা শুক্রবার গাজীপুর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পরে বিচারক শাকিল আহমেদের নির্দেশে আসামিদের গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পিবিআইয়ের এসআই সনজিৎ বিশ্বাস।
আসামিরা হলেন- মো. মোজাম্মেল হক (৩২) এবং তার বড় ভাই মো. জহির আলী (৩৯)। তারা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার হিমারদীঘি গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
তাদের বিরুদ্ধে নিখোঁজ জনি আক্তার রূপাকে (২০) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। রূপা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। রূপা প্রথমে মোজাম্মেলকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরে রূপা উজ্জ্বল মিয়াকে (২৬) বিয়ে করেন। তারা গাজীপুরের কালীগঞ্জের বালিগাঁও গ্রামে থাকতেন।
শনিবার গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোজাম্মেল এক সময় মালয়েশিয়া থাকতেন। তখন স্ত্রী রূপার মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে প্রায় নয় লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন।
“২০২২ সালে মোজাম্মেল দেশে ফিরে আসেন। তখন টাকার হিসাব চাইলে রূপা ও তার মা টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেননি। এ নিয়ে রূপা ও মোজাম্মেলের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয়। এর মধ্যেই দুই ছেলেকে রেখে রূপা গোপনে উজ্জ্বল মিয়াকে বিয়ে করে কালীগঞ্জের বালিগাঁও চলে যান।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পিবিআইয়ের এসআই সনজিৎ বিশ্বাস বলেন, মোজাম্মেল ৬ জানুয়ারি রূপাকে মোবাইল ফোনে সন্তানদের বিষয়ে আলাপ করার জন্য হিমারদীঘি গ্রামে আসার অনুরোধ করেন। এরপর রূপা গাজীপুর থেকে গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।
“রূপা মাদারগঞ্জে পৌঁছালে মোজাম্মেল তাকে নিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর চরে বন্ধুর বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রওনা দেন। মোজাম্মেলের বড় ভাই জহির আলী আগে থেকেই একটি নৌকা নিয়ে জামথৈল ঘাটে বসে থাকেন। এরপর দুই ভাই ও রূপা নৌকায় করে যমুনার চরে রওনা দেন। যাওয়ার সময় রূপাকে হত্যা করে বালির বস্তায় ভরে যমুনা নদীর গভীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।“
পিবিআই জানায়, রূপার খোঁজ না পেয়ে দ্বিতীয় স্বামী উজ্জ্বল মিয়া বাদী হয়ে ২৪ জানুয়ারি কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের প্রায় তিন মাস পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।