এফবিআইয়ের হাজার হাজার এজেন্টের তথ্য চুরির দাবি হ্যাকার দলের
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় এই তদন্ত সংস্থার সিস্টেম হ্যাক করা সাইবার অপরাধীরা দাবি করছে, তাদের কাছে সংস্থাটির বিশেষ এজেন্টের অত্যন্ত সংবেদনশীল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-কে ঘিরে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যভাণ্ডারে হানা দেওয়ার দাবি করেছে ‘শাইনিহান্টার্স’ নামের এক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী।
এফবিআই-এর সিস্টেম হ্যাক করা এই সাইবার অপরাধীরা দাবি করছে যে, তাদের কাছে সংস্থাটির হাজার হাজার বিশেষ এজেন্টের অত্যন্ত সংবেদনশীল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য (মেডিকেল ডাটা) রয়েছে।
ফিটনেস-ফর-ওয়ার্ক বা কাজের উপযোগীতা পরীক্ষার চুরি যাওয়া মেডিকেল রিপোর্টের কিছু নমুনা বিবিসি নিউজ দেখেছে।
এই নমুনাগুলোতে এজেন্টদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার ফলের মতো তথ্য এবং শেলফিশ (চিংড়ি বা কাঁকড়ার মতো জলজ প্রাণী) ও কলার অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ থাকা চিকিৎসকের নোট রয়েছে।
এই রেকর্ডগুলোতে এজেন্টদের পুরো নাম এবং ঠিকানা রয়েছে, পাশাপাশি মূত্রে রক্ত এবং উচ্চ কোলেস্টেরল-সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এফবিআই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। একারণে সংস্থাটির কর্মকর্তারা ধোঁকাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং নির্দিষ্ট হামলার শিকার হতে পারেন। এমনকি অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বেড়ানোর সুযোগও পেতে পারে।
ক্যাটো নেটওয়ার্কসের 'থ্রেট ইন্টেলিজেন্স' বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এতায় মাওর বলেন, একটি তালিকা পাওয়া গেছে , যার একদিকে এজেন্টদের নাম আছে এবং তার সাথে মিলিয়ে অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের বিস্তারিত তথ্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে বা ট্র্যাক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “পাসওয়ার্ড হ্যাক হলে বদলে ফেলা যায়। কিন্তু স্বাস্থ্যের গোপন রিপোর্ট বা মেডিকেল রেকর্ড একবার চুরি হলে তা আর কোনোদিন পরিবর্তন বা গোপন করা সম্ভব নয়। আর পুরো কোম্পানির সব কর্মচারির ক্ষেত্রে যখন এমন ঘটে, তখনই বিষয়টি চরম বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।”
এফবিআই মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি। তবে বুধবার তারা এই হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, এটি কীভাবে ঘটল তা তারা সক্রিয়ভাবে তদন্ত করে দেখছে।
সাইবার অপরাধী চক্র শাইনিহান্টার্স জানিয়েছে, তারা সোমবার এফবিআই-এর সিস্টেম হ্যাক করেছে এবং পরবর্তীতে তাদের ডার্কনেট সাইটে এই সাইবার হামলার বিবরণ পোস্ট করেছে।
হ্যাকার গ্রুপটি চুরি করা তথ্যের কিছু নমুনা সাংবাদিকদের দেখিয়েছে এবং একইসঙ্গে একটি হুমকিমূলক দাবি করেছে।
সাধারণত এমন হয় না। তবে হ্যাকাররা এবার কোনও অর্থ দাবি করছে না। তারা কেবল মে মাসে প্রকাশ করা এফবিআই-এর একটি নোটিশ তুলে নিতে বলছে। ওই নোটিশটি তাদেরকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে দাবি করেছে তারা।
হ্যাকাররা চুরি করা তথ্যের যে নমুনা সাংবাদিকদের দেখিয়েছে সেটি আসল বলেই প্রতীয়মান হয়েছে এবং সেখানে এজেন্টদের নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ব্যাজ নাম্বার, চাকরিতে পদবী এবং তাদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্পর্কিত তথ্যও আছে।
রেকর্ডগুলো দেখে মনে হয়, এগুলো হাজার হাজার এজেন্টের, যার মধ্যে উপ-পরিচালকদের মতো বড় বড় কর্মকর্তারাও আছেন।
